Breaking News
Home / অন্যান্য / অনিশ্চিত জিকে বিল্ডার্সের ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভাগ্য; দরকার প্রধান মন্ত্রীর অনুকম্পা

অনিশ্চিত জিকে বিল্ডার্সের ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভাগ্য; দরকার প্রধান মন্ত্রীর অনুকম্পা

অনলাইন ডেক্সঃ

দেশের অন্যতম বৃহৎ নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান জি.কে.বি এন্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান এস. এম. গোলাম কিবরিয়া শামীম, গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হওয়া এবং প্রতিষ্ঠানটির সকল ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার ফলে প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সরকারের বেশ কয়েকটি জনগুরুত্বপুর্ন স্থাপনার নির্মান কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়।

প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হাজার হাজার পরিবার অনিশ্চিত বেকারত্বের কবলে পড়ে চরম দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। এ অনিশ্চয়তা কাটাতে তারা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পা । গত ছয় মাস এর ও বেশী সময় ধরে বন্ধ  রয়েছে শ্রমিকদের মজুরী, কর্মচারীদের বেতন, সাপ্লায়ারদের পাওনা বিল। যার ফলশ্রুতিতে পরিবার গুলোকে অতি অসহায় ও চরম দুঃসহ জীবন যাপন নির্বাহ করতে হচ্ছে।

কোম্পানিটির এডমিন অফিসার সোহেল হোসেন প্রতিবেদককে জানান, “সরকারের কাছে তাদের চলমান এবং শেষ হওয়া প্রকল্পের কাজের অনেক বিলও বকেয়া রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির একক ও যৌথ সকল প্রকার ব্যাংক একাউন্ট অবরুদ্ধ করার কারনে সরকারী এই জনগুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং শ্রমিক-কর্মচারীরা কোন মজুরী, বেতন, বিল ও খোরাকি কিছুই পাচ্ছে না।”

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির সাইট ইঞ্জিনিয়ার আলী আজম জানান, “কোম্পানির সকল প্রকল্প বন্ধ এবং ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার ফলে আমরা বেতন, ভাতাদি কিছুই পাচ্ছিনা, ফলে আমাদের সন্তান ও পরিবার নিয়ে ভীষণ কষ্ট করে যাচ্ছি। অন্য কোথাও এখনও পর্যন্ত কাজের ব্যবস্থা হয়নি। তবে সরকার যদি প্রকল্প গুলো চালুর ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারতাম।”

উল্লেখ্য যে, কোম্পানিটি ১৯৯৪ সালে অর্থাৎ আজ থেকে ২৬ বছর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তালিকা ভুক্ত হয়ে সরকারের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মান করে আসছে। তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ নির্মান শ্রমিক, কর্মচারী, প্রকৌশলী, সাব-কন্ট্রাক্টর সহ অনেকে প্রায় ২০ বছর আগে থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে আসছিলেন। জানা যায় ইতিপুর্বে তাদের মজুরী, বেতন ও বিল নিয়ে কখনও কোন প্রকার সমস্যায় পড়তে হয়নি। জি.কে.বি এন্ড প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেড এর অফিস ইনচার্জ রিপন খান, যিনি ২৫ বছর যাবত এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছেন। তিনি বলেন, “আমাদের নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অসংখ্য জনগুরুত্বপূর্ন স্থাপনা ও ভবনাদি সঠিক ও সর্বোচ্চ গুনগতমান সহকারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণরুপে সম্পাদন করে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

আমরা এখনও আশাবাদী সরকার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনায় রেখে এর সকল প্রকল্প দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা করে কোম্পানির অত্যন্ত দুর্বিসহ জীবন যাপনকারী হাজার হাজার শ্রমিক ও শত শত কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের দুঃখ লাঘবে একটু সহানুভূতিশীল হবেন।”

এদিকে কয়েকটি প্রকল্প এলাকা পরদর্শন করে দেখা যায়, সেখানে কোটি কোটি টাকার মালামাল, যন্ত্রপাতি, মালামাল পরিবহনের যানবাহন খুবই অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত গুলো প্রকল্প কার্যক্রম থেমে যাওয়ার ফলশ্রুতিতে সরকার এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উভয়ই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা সহজে পূরণীয় নয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সরকারের রুপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে। অর্থাৎ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ বাস্তবায়নও ব্যাহত হচ্ছে। প্রভাব পড়ছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। তাই এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপুরনীয় ক্ষতি রোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সব কয়টি নির্মান প্রকল্প দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা করা একান্তই প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পা চাওয়া হয়েছে।

About dhakacrimenews

Check Also

জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে সাংবাদিক বেলায়েত হোসেনের সংক্ষিপ্ত খোলা চিঠি 

আসসালামু আলাইকুম বিগত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *