Breaking News
Home / আইন ও অপরাধ / নায়িকা হতে এসে শ্লীলতাহানি-মারধরের শিকার তরুণী

নায়িকা হতে এসে শ্লীলতাহানি-মারধরের শিকার তরুণী

মিডিয়াতে কাজ করার স্বপ্ন ছিল তরুণীর (১৯)। হতে চেয়েছিলেন নায়িকা। অপেক্ষায় ছিলেন কখন সেই সুযোগ আসবে। স্বপ্ন পূরণের জন্য নানা জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করছিলেন তিনি। একসময় সেই সুযোগও চলে আসে। পরিচয় হয় সাদ্দাম হোসেন মাসুম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। যে নিজেকে প্রযোজক-পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেয়। সে কথাও দেয় ওই তরুণীকে নায়িকা হিসেবে তৈরি করবে।

মিডিয়ায় কাজ করার জন্য শক্ত অবস্থান গড়ে দেবে। আস্থা অর্জনের জন্য একাধিক স্থানে তার ফটোশুটও করেছে পরিচালক। পরিচয় করে দিয়েছে অনেক পরিচালক ও নায়ক-নায়িকার সঙ্গে। বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের দিয়ে তার ইন্টারভিউও করিয়েছেন। যদিও সেই রিপোর্টগুলো আর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় ওই তরুণীকে পল্টনের প্রীতম-জামান টাওয়ারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালান। এসময় তরুণী বাধা দিলে তাকে মারধর করেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ভেঙে দেন। এমনকি তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন তরুণী।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী মঙ্গলবার অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন মাসুমের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন গত ৩০শে অক্টোবর ঢাকার গুলশানে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়। এসময় তিনি নিজেকে এফডিসির প্রযোজক ও পরিচালক হিসাবে পরিচয় দেন। তাকে মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ করে দিবেন বলে প্রস্তাব করেন। ওই তরুণীও তার প্রস্তাবে রাজি হয়। ওই দিন থেকেই সাদ্দাম হোসেন তাকে নিয়ে এফডিসিসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ফটোশুট করান।

সোমবার তাকে শন্তিনগরের ১৬৯/১ কনকর্ড গ্রান্ড ভবনের তৃতীয় তলায় জীবন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির অফিসে নিয়ে যান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন শিলা আক্তার (২৭) ও শাহানা আক্তার (১৬) নামে দুজন সঙ্গী। সাদ্দাম হোসেন জীবন চৌধুরী ছাড়া সাংবাদিক পরিচয় দেয়া শাহাদাত হোসেন বাবুল ও আরেক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে পরিচয় করান। তখন ওই দুই সাংবাদিক তরুণীর ইন্টারভিউ নেন। ইন্টারভিউ শেষে সাদ্দাম হোসেন ওই তরুণীর সঙ্গী শিলা ও শাহানাকে জীবনের অফিসের নিচে রেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চলচিত্র পরিচালক ফিরোজ শাহীর পল্টনের প্রীতম জামানের ৫ম তলার অফিসে নিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় করায়।

একপর্যায়ে ফিরোজ শাহী তার ব্যক্তিগত কাজে অফিসের বাইরে চলে যান। সাদ্দাম হোসেন এই সুযোগে ওই তরুণীর সঙ্গে একা কথা বলবে বলে অফিসের ওয়াশরুমের দিকে নিয়ে যান। এসময় সাদ্দাম হোসেন আচমকা তরুণীকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরেন। হাত দেন তার স্পর্শকাতর স্থানে। এসময় তরুণী তাকে বাধা দিতে থাকেন। বাধা দেয়া সত্ত্বেও সাদ্দাম শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে এবং ধস্তাধস্তি শুরু করে। এক পর্যায়ে কোনো সুযোগ না পেয়ে সাদ্দাম রাগান্বিত হয়ে যায় এবং তরুণীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এছাড়া মারধর শুরু করে তাকে। এমনকি এই ঘটনার বিষয়ে কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।

এজাহারে তরুণী আরও উল্লেখ করেছেন, তিনি কৌশলে সাদ্দামের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে ফিরোজ শাহীর অফিস থেকে বের হয়ে আসেন। ঘটনাটি খুলে বলেন তার সঙ্গী শাহানা ও শিলাকে। পরে তাদের সহযোগিতায় প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে এসে থানায় মামলা করেছেন। সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়। বতর্মানে ঢাকার মহাখালীর সাততলা বস্তিতে থাকেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক সোমেন বড়ুয়া বলেন, আমরা অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করেছি। সে আর কোনো তরুণীর সঙ্গে এরকম করেছে কিনা সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

About dhakacrimenews

Check Also

ঢাকায় প্রবেশ বাহির আবারো কঠোর অবস্থানে পুলিশ

মোল্লা সোহেল-   জাগো বাংলা নিউজ: একান্ত জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঢাকা শহরে প্রবেশ বা এখান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *