Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / রোহিঙ্গারা কি আদৌ ফিরবে? উদ্বিগ্ন কক্সবাজারের স্থানীয়রা

রোহিঙ্গারা কি আদৌ ফিরবে? উদ্বিগ্ন কক্সবাজারের স্থানীয়রা

“আমরা নিজেরাই চলে যেতে চাই। থাকতে চাই না। বিচার পেলে আমরা যাব নাহলে ফাঁসি দিলেও আমরা যাব না,” রাবিজান বেগম (হলুদ চাদরে বাম থেকে দ্বিতীয়)
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনাগ্রহ এবং তীব্র আপত্তির কারণে প্রত্যাবাসনের আরেকটি উদ্যোগও ব্যর্থ হতে চলেছে।

ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদেরকে মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছেনা দেখে আপাতত হয়ত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে, কিন্তু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন টেকনাফের স্থানীয় মানুষজন।

দুবছর আগে রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে সহানুভূতি-সহমর্মীতা ছিল তা যে শুধু বহুগুণে কমেছে তাই নয়, অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছেন তারা।

রোহিঙ্গারা আদৌ মিয়ানমারে ফিরবে কিনা সেটি নিয়েও তারা এখন সন্দিহান।

‘হিমশিম খাচ্ছি’
উখিয়ার ঠ্যাংখালী বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফেজ এজহারুল হকের ভাষায় রোহিঙ্গারা এখন পুরো এলাকার জন্য নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমরা স্থানীয় জনগণ হিমশিম খাচ্ছি”।

“আমরা স্থানীয় জনগণ হিমশিম খাচ্ছি”- উখিয়ার ঠ্যাংখালী বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফেজ এজহারুল হক
১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া বাংলাদেশি এক পরিবারের আতঙ্ক আরো বেশি। তাদের চাষের জমিজমা ক্ষেত খামারে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়ে উল্টো তাদেরই এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করে পরিবারটি।

গৃহকত্রী মুরশিদা বেগম বিবিসিকে বলেন, বাধ্য হয়ে আর্মি ডেকে রোহিঙ্গাদের শাসাতে হয়েছে। তার সন্দেহ এই রোহিঙ্গারা আর ফেরত যাবে না।

“এরা আসলে যাবে না। এমন সহযোগিতা পেলে কেউ যায়! আমাদের তারা বলে এ জমি হাসিনা তুর্কীর কাছে বেঁচে দিছে। এটা আমাদের জায়গা। তোমরা চলে যাও।”

উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা বর্তমানে ১১লাখ ১৮হাজার ৫৭৬। যার মধ্যে শুধু ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্টের পরই এসেছে ৭লাখ ৪১হাজার ৮শ ৪১ জন।

এই জনসংখ্যা পুরো কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের চেয়েও অনেক বেশি।

মিয়ানমারের বুচিডং এলাকার নেতা আবুল বাসার প্রায় সোয়া লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিলেন।
মিয়ানমারে ফিরতে নারাজ
এদিকে দুবছর ধরে অস্থায়ী ক্যাম্পে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে বসবাস করলেও নিজদেশে ফেরার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না রোহিঙ্গারা।

তারা স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, নাগরিকত্ব ও রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি, নিজস্ব ঘরবাড়ী সম্পত্তি ফেরত, নিরাপত্তা এবং নির্যাতনের বিচারের দাবি পূরণ না হলে দেশে ফিরে যাবেন না।

ক্যাম্পে অবস্থিত মিয়ানমারের বুচিডং এলাকার নেতা আবুল বাসার প্রায় সোয়া লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিলেন। ফেরার প্রশ্নে তাদের ৫-দফা পূরণের দাবি উল্লেখ করে তিনি বিবিসিকে বলেন, তার ভয় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে আবার ক্যাম্পে ঢোকানো হবে।

“আমাদের যে পাড়া ছিল সেটা সমান করে মগ, চাকমাদের দিয়ে এই মাথায় একটা আর ওই মাথায় একটা ঘাঁটি বসাইছে। তাহলে আমাদের নিয়ে কোথায় রাখবে?”

পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে মগদের হাতে খুন হন রাবিজান বেগমের স্বামী। চারটি মেয়ে নিয়ে তার আশ্রয় হয়েছে টেকনাফের এক ক্যাম্পে। নিজের এবং মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তার প্রতিমুহূর্তের।

“আমরা নিজেরাই চলে যেতে চাই। থাকতে চাই না। বিচার পেলে আমরা যাব নাহলে ফাঁসি দিলেও আমরা যাব না।”

১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া বাংলাদেশি এক পরিবারের দাবি তাদের চাষের জমিজমা ক্ষেত খামারে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়ে উল্টো তাদেরই এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। গৃহকত্রী মুরশিদা বেগম বলেন, বাধ্য হয়ে আর্মি ডেকে রোহিঙ্গাদের শাসাতে হয়েছে।
প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের লোকদেখানো কূটচাল?
উখিয়া টেকনাফের সব ক্যাম্পেই রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ অবস্থান নিয়েছেন। শিবিরে ৫-দফা দাবি সম্বলিত ইংরেজিতে লেখা প্রচারপত্র বিলি করতেও দেখা গেছে তাদের।

প্রচারপত্র হাতে এক রোহিঙ্গা বলছিলেন, ২২ আগস্টের প্রত্যাবাসন শুরুর প্রক্রিয়াকে মিয়ানমারের লোকদেখানো একটি কূটচাল বলে তারা মনে করেন।

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের আগে এই অল্প-কয়েকজন ফিরিয়ে নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এবং সমালোচনা আড়ালের একটি চেষ্টা হচ্ছে বলেও রোহিঙ্গারা মনে করছে।

দুবছরে এসেও প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারার হতাশা ছিল শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালামের

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরী – শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম
“দুবছর অতিক্রান্ত হতে চললেও বহুল প্রত্যাশিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। এটি দৃশ্যত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যেমন একটি হতাশার কারণ হিসেবে বিরাজ করছে একই ভাবে উখিয়া ও টেকনাফের যারা স্থানীয় লোকজনের তাদের মধ্যেও কিন্তু একটি বিরাট হতাশা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরী”।

তবে মি. কালাম একই সঙ্গে জানান জোর করে কাউকে ফেরত পাঠানো হবে না এটি বাংলাদেশ সরকারের নীতি।

আন্তর্জাতিক মনোযোগ কমছে
অল্প জায়গার মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনযাপনের মৌলিক চাহিদা পূরণ এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ সংকটে শুরুর মতো সহযোগিতা আর মনোযোগেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরেও।

চ্যালেঞ্জটা হলো শুরুতে যে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ছিল সেটা এখন নেই – আইওএম এর মুখপাত্র জর্জ ম্যাকলিওড
উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যেও আছে উদ্বেগ।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এর মুখপাত্র জর্জ ম্যাকলিওড বলেন, “২০১৭ সালের তুলনা করলে সংকট এখনো বিদ্যমান। চ্যালেঞ্জটা হলো শুরুতে যে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ছিল সেটা এখন নেই। আশাকরি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ইস্যুতে প্রতিশ্রুতি-বদ্ধ থাকবে।”সূত্র ঃ বিবিসি বাংলা।

About bangladeshsoft

Check Also

ফুটপাথে দখল বাণিজ্য দুই সিটিতে

উত্তরের সর্বত্র, দক্ষিণের দেড় শ পয়েন্টে বেহাল পরিস্থিতি অবৈধ হাটবাজার, গজিয়ে উঠেছে ১৭ টার্মিনাল ঢাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *