Breaking News
Home / জাতীয় / বিনিময় আছে অয়োময় নাই? ডা: মুুহাম্মদ মুজিবুর রহমান

বিনিময় আছে অয়োময় নাই? ডা: মুুহাম্মদ মুজিবুর রহমান

ঢাকা ক্রাইম নিউজ: ইসলামের দৃষ্টিতে ভিক্ষাবৃত্তি সবচেয়ে ঘৃন্যতম কাজ বা পেশা।
অথচ এই ঘৃন্যতম পেশাকে পূঁজি করে রাজধানী শহরে বেশ কয়েকজন ভিক্ষুক নাকি লাখপতি এবং কোটিপতি হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছি।

যদিও সে সংখ্যা নগণ্য তবু তো বিস্ময় সৃষ্টি করে বৈকি! আমি ব্যক্তিগত ভাবে শহরে বসবাসকারী কোন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে লাখ বা কোটিপতি বানানোর পক্ষে নই।

একেক মানুষ একেক অজুহাতে ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করে। দরিদ্র এবং শারীরিক ভাবে অসুস্থ বা অক্ষম, উপার্জনের অন্যকোন উৎস নাই সে ভিক্ষা করে।

অপরদিকে স্বামী পরিত্যক্ত বা বিধবা বাসা-বাড়ীতে বুয়ার কাজ করে উপার্জনের জন্য শারীরিক উপযুক্ততা একশতভাগ থাকা সত্ত্বেও সে ভিক্ষা করে। মোট কথা, এর জন্য এমন কোন নীতিগত বা নির্দিষ্ট বিধিমালা নাই, লাজ-লজ্জা ফেলে দিয়ে মানুষের কাছে একবার হাত পাতলেই হলো।

জনশ্রুতি রয়েছে, একবার ভিক্ষার চালের ভাত পেটে গেলে ভবিষ্যতে সে যতই স্বাবলম্বী হোক না কেন ভিক্ষাবৃত্তি নাকি বন্ধ করতে পারেনা।

বিদেশের ভিক্ষুকগুলো আমাদের দেশের ভিক্ষুকের চেয়ে ব্যতিক্রম। তারা জনগণকে মাথায় বা শরীরে হাত বুলিয়ে ভিক্ষার জন্য উত্যক্ত করেনা। এক টুকরা কাপড় বিছিয়ে বা মাথার হ্যাট মাটিতে ফেলে ফুটপাথ বা রাস্তার পাশে বসে পিয়ানো কিংবা অন্যকোন সুরেলা যন্ত্র বাজাতে থাকে।

পথচারীগণ তাদের সামর্থ অনুযায়ী কয়েন বা নোট ঐ কাপড় খন্ড বা হ্যাটের উপর নীরবে ফেলে চলে যায় অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে থেকে বাদ্য যন্ত্র বাজানোর সুর শোনে। সেই ভিক্ষুক ভিক্ষার পরিমাণ দেখে কখনো কোন ভেংচি কেটেছে বলে আমি শুনি নাই।

আর আমাদের দেশের ভিক্ষুকরা যেন জোর করে ভিক্ষা আদায় করে ছাড়বে এমন আচরন বিশেষ করে গণপরিবহণ এবং শহরগুলোতে লক্ষ্য করা যায়।
প্রাইভেট কারে চলবেন সেখানেও ঐ একই অবস্থা। সিগনাল পয়েন্টে গাড়ী থামা মাত্র দুইপাশ থেকে চলে আসবে ভিক্ষুকের দল আর শোনা যাবে ভিক্ষা আদায়ের নানা কৌশলগত বাক্য। গাড়ীতে বিদেশি দেখলে ওদের উৎপাত আরও বেড়ে যায়।

এরূপ উৎপাত বন্ধ করতে আর সম্ভত: বিদেশিদের কাছে নিজের দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ঢাকা শহরের কুটনৈতিক এলাকাসহ আরও কিছু এলাকা বা রাস্তাকে ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপরও সে এলাকাগুলোতে ভিক্ষুক দেখা যায় তবে পূর্বের তুলনায় অনেক কম।

শহরের কোন ভিক্ষুককে দশ, বিশ টাকা ভিক্ষা দিলে তারা খুব খুশি হয় বলে মনে হয়না আর পাঁচ টাকা দিলে তো মুখে বিরক্তির ছাপ! অথচ গ্রামের কোন ভিক্ষুককে সেই পরিমাণ টাকা ভিক্ষা দিয়ে কোন কোন ভিক্ষুকের চোখের কোণে আনন্দাশ্রু দেখেছি এমনকি মন খুলে দোয়া করতেও শুনেছি।

শহরের ভিক্ষুকদেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে ভিক্ষা না দেয়ার পক্ষে এমনকি নিরুৎসাহিত করি যে কারণে-

১. ভিক্ষা করার নেশায় গ্রাম থেকে মানুষ শহরমুখী হলে গ্রামে কাজের লোকের অভাব দেখা দিবে এবং বর্তমানে সেটা হয়েও গেছে।

২. শহরে ভিক্ষা বেশি পেলে গ্রাম থেকে মানুষ ভিক্ষার জন্য শহরমুখী হয় তাতে ঐ শহরে ভাসমান জনসংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।

৩. ভিক্ষুকসহ অন্যান্য ভাসমান জনগণের জন্য ঐ শহরের পরিবেশ, রোগ বালাই বৃদ্ধিসহ আরও অনেক কিছুতেই এর প্রভাব পড়বে।

৪. এই সকল ভিক্ষুক বা ভাসমান জনগোষ্ঠীর সন্তান-সন্ততিরা শহরে বিভিন্ন অনৈতিক এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কার্যকলাপেরর সাথে সম্পৃক্ত হবে।

৫. শহরের কোন কোন ভিক্ষুক ভিক্ষার টাকায় অপকর্ম এবং নেশার সাথেও জড়িত।

যদিও উল্লেখিত কারণগুলো সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত, অন্যের কাছে সেটা ভাল কি মন্দ তা ভেবে দেখার প্রয়োজন মনে করিনি।

একদিন অফিসের গাড়ীতে করে মিটিং এ যোগ দেবার উদ্দেশ্যে মহাখালী থেকে ফার্মগেটের দিকে যাচ্ছি । বিজয় সরণীর নিকট ট্রাফিক সিগনালে গাড়ী থামতেই জোয়ান এক মহিলা আমার গাড়ীর বন্ধ গ্লাসে টোকা দিচ্ছে তো দিচ্ছেই। আর বিভিন্ন ধরনের আর্জি পেশ করছে যা গ্লাস বন্ধ থাকায় শুনতে পারছিলামনা বটে তবে তার ঠোঁট নাড়াচাড়ায় বুঝতে পারছিলাম।

মহিলাটি ধরেই নিয়েছে গাড়ীতে বসা সাহেব অবশ্যই বড় সাহেবদের একজন হবে! যদিও তার অনুমান ঠিক নয় এই জন্য যে চক চক করলেই সে বস্তু সোনা নয়! সে তার কাঙ্খিত পরিমাণ ভিক্ষা পাবার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিগনালও ছাড়ছেনা দেখে আমি গাড়ীর ভিতর থেকে আলতোভাবে গ্লাস নামিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম- তোমার যে বয়স আর শরীর স্বাস্থ্য তাতে ভিক্ষা না করে বাসায় কাজ করলেও তো ভাল রোজগার করতে পারবে, ভিক্ষা কর কেন? – অপরিচিত লোকদের কেউ কাজ দিতে চায় না স্যার, তার উত্তর।

ঠিক আছে, আমি আমার বাড়ীতে কাজ দিলে তুমি কি কাজ করবে?
– জ্বী স্যার।
– কাজ কিন্তু এই শহরের বাসায় না, আমার গ্রামের বাড়ীতে।

তুমি সেখানে তোমার নির্দিষ্ট বেতনের পরও থাকা-খাওয়া ফ্রী পাবে।
– কিভাবে যাব স্যার? আমি তো চিনিনা।
– আমি তোমাকে ঠিকানা আর বাস ভাড়া দিয়ে দিব এবং ফোন করে বাড়ীতে জানিয়ে দিব।

( অপরিচিত এক মহিলাকে এভাবে বাড়ী পাঠাব সেটা আমার অভিপ্রায় নহে, শুধু তার মতলব পর্যবেক্ষণ করছিলাম)
– কোন বাসে এবং কোথা থেকে যেতে হবে বলে দিবেন, আমি যাব স্যার।
– মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে “বিনিময়” বাসের টিকিট করে সর্বশেষ স্টেশনে নামবে।
আমি সবকিছু বলে রাখব, আমার বাড়ী থেকে লোক এসে তোমাকে বাস স্ট্যান্ড থেকে নিয়ে যাবে।

ভিক্ষা তো দিচ্ছেইনা বরং তার সময় নষ্ট করছে এমন সাহেবের উপর কোন ভিক্ষুক গোস্বা না করার কোন কারণ আছে কি?

এতক্ষণে সিগনাল ছেড়ে দিচ্ছে দেখে সে আমার উপর তার জমে থাকা ক্ষোভের বহি:প্রকাশ এমনি ভাবেই ঘটাল- মহাখালীতে “বিনিময়” আছে ” অয়োময়” নাই? আরও যেন কি কি বকবক করতে করতে গা ঝ্যাংটা দিয়ে চলে গেল।

আমিও সামনের পথে চলতে চলতে নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম মহাখালী বাসটার্মিনালে এনা, সৌখিন, মহানগর আর “বিনিময়”সহ এত পরিবহণ আছে কিন্তু “অয়োময়” নাই কেন?

About dhaka crimenews

Check Also

নদীর তীর পুনর্দখলের চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শনিবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের খোলামোড়া ঘাটে সীমানা পিলার, ওয়াকওয়ে, নদী তীর রক্ষা প্রাচীর (কিওয়াল) এবং ওয়াকওয়ে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *