Breaking News
Home / আইন-আদালত / মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার পুলিশের দুই এসআই

মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার পুলিশের দুই এসআই

ঢাকা ক্রাইম নিউজ: ভৈরবে সজিব নামে এক শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন থানা পুলিশের দুইজন এসআই।

তারা হলেন, এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক।
এদের মধ্যে এসআই আবুল খায়ের সবচেয়ে বেশি বেধড়ক মারপিটের শিকার হয়েছেন।

শনিবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের শম্ভুপুর পাক্কার মাথা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, মদের বোতল দিয়ে শিক্ষার্থী সজিব মিয়াকে ফাসাঁনোর চেষ্টা করে পুলিশ।
সে শম্ভুপুর সরকারি টেকনিক্য্যাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
সজিবের বাবা মো. সাব মিয়া একজন মুদি দোকানী।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে ভৈরব থানার এসআই আবুল খায়ের ও আজিজুল হক শহরের চান্দ ভান্ডারের সামনে থেকে মদের বোতলসহ মোটর সাইকেল আরোহী সজিবকে আটক করেন।

পরে মোটর সাইকেলে সজিবকে থানায় নেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ।

কিন্তু, সজিব কৌশলে মোটর সাইকেল নিয়ে দুর্জয় মোড় থেকে সজোরে পাক্কার মাথায় চলে যায়।
এসময় সজিবকে হাতকড়া পড়াতে চাইলে সে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে স্থানীয়রা এবং সজিবের পরিবারের সদস্যরা জানায়, মোটর সাইকেল নিয়ে সজিব তার দুই বন্ধুকে নিয়ে সন্ধ্যায় ঈদের নতুন জামা কিনতে বাজারে যায়। পরে তাদেরকে চান্দ ভান্ডারের সামনে আটকে সজিবের গায়ে মদ ছিটিয়ে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

পরে সজিব মোটর সাইকেল নিয়ে তার মহল্লা শহরের পাক্কার মাথা চলে আসে।
তাদের পিছু নেয় ভৈরব থানার এসআই আবুল খায়ের ও আজিজুল হক।

পরে সজিবকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যেতে চাইলে, বিষয়টি স্থানীয়দের চোখে পড়ে।

এসময় এসআই আবুল খায়েরের গায়ে পুলিশের পোষাক না থাকার কারণে ছিনতাইকারী ভেবে তাদেরকে গণধোলাই দেয়।

খবর পেয়ে ভৈরব থানার এসআই মোখলেছুর রহমান রাসেল ও অভিজিৎ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবুল খায়েরকে উদ্ধার করে।

একই সাথে পুলিশের উপর হামলার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পরে সেহরি খাওয়ার সময় সজিবের বাবা মো. সাব মিয়াকেও আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকে বাড়ি ছাড়া রয়েছে।

অন্যদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, এসআই আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে একাধিক আটক বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

শহরের বিভিন্ন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আটকের পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। পথচারী ও ব্যবসায়ীকে আটকে পুলিশ চেকের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ফলে তার একের পর এক অপকর্মে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই আবুল খায়ের বলেন, অন্যরা অপকর্ম করে আমার নাম বলে দেয়।

আমি এসবের সাথে জড়িত না।
তাছাড়া শনিবার (১ জুন) রাতে আমরা সজিবের মোটর সাইকেল দেখে সন্দেহ করি।
তার দেহ তল্লাশী করে একটি মদের বোতল পেয়েছিলাম। পরে সজিবকে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে সে কৌশলে মোটর সাইকেল নিয়ে পাক্কার মাথায় চলে যায়।

এসময় তাকে আটক করতে গেলে স্থানীয়রা ভুল বুঝে অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

এ প্রসঙ্গে ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের সাথে শনিবার (১ জুন) একটি ভুল বুঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে।

আসলে সজিবকে মদের বোতলসহ আটক করা হয়।
পরে সে মোটর সাইকেল নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ভৈরব সার্কেলের এএসপি মো. রেজুয়ান দীপু বলেন, রাতের ঘটনাটি শুনেছি।

তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়া কাউকে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে দেয়া হবে না।

সূত্র-কিশোরগঞ্জ নিউজ

About dhaka crimenews

Check Also

বনানী থানার বিট ইনচার্জ এস আই আবদুল্লার নাগরিক তথ্য সংগ্রহ অস্থায়ী ক্যাম্প উদ্বোধন

মোল্লা সোহেল- ঢাকা ক্রাইম নিউজ: জঙ্গি, সন্ত্রাস ,মাদক, ব্যবসায়ীদের তথ্য দিন , আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাহায্য ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *