Breaking News
Home / অনুসন্ধান / গ্যাস-সন্ত্রাসীরা অপ্রতিরোধ্য

গ্যাস-সন্ত্রাসীরা অপ্রতিরোধ্য

ঈগল টিম
গ্যাস-সন্ত্রাসীরা অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাজধানীতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরির সংঘবদ্ধ চক্র। সর্বত্রই যখন গ্যাসের তীব্র সংকট, তখনো থেমে নেই এসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। দিয়ে যাচ্ছে অবৈধ সংযোগ। হাজার হাজার বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া এ সংযোগে গ্যাস আসুক আর না আসুক মাসশেষে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি-কোটি টাকা। এসব টাকার এক কানাকড়িও জমা পড়ে না সরকারি কোষাগারে। এতে চাপ বাড়ছে গ্যাসের ওপর। আর ভুক্তভোগী বৈধ সংযোগকারীরা।

রাজধানীর যেসব এলাকায় নতুন আবাসন গড়ে উঠেছে, সেখানেই রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা প্রায় সব বস্তিতেই চোরাই লাইনে টানা গ্যাসে জ্বলছে চুলা। বনানী থানা এলাকায় অবস্থিত কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তি এগুলোর মধ্যে অন্যতম। অবৈধভাবে টানা শুধু গ্যাস খাতে বস্তি দুটি থেকে মাসে এক কোটি টাকারও বেশি চাঁদা তোলা হচ্ছে। বনানী থানা পুলিশের নামে মাসিক ভিত্তিতে তোলা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বনানী থানা পুলিশ। এ ছাড়া ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অত্যন্ত আস্থাভাজন সুইট নামে এক ব্যক্তি প্রতি মাসে তুলে নিচ্ছেন ৩ লাখ টাকা। স্থানীয় মাস্তান বাহিনী, প্রভাবশালী ৩ রাজনৈতিক ব্যক্তি, ওই জোনের তিতাসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের নামে মাসের নির্ধারিত তারিখে পৌঁছে যাচ্ছে ২০ লাখ টাকারও বেশি চাঁদা।

অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারী-ঠিকাদাররা। পিছিয়ে নেই নিজ নিজ থানা এলাকার অসাধু পুলিশ সদস্যরাও। তারা একজোট হয়েই সচল রেখেছে চোরাই গ্যাস-বাণিজ্যের চাকা। ডোবা-নালাসহ যত্রতত্রে প্লাস্টিক পাইপসহ নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে টানা এসব অবৈধ সংযোগে গ্যাস চুরির মাধ্যমে সরকার শুধু বিপুল পরিমাণ রাজস্বই হারাচ্ছে না, গ্যাস বিতরণব্যবস্থাও ভয়ানক বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনায় মানুষের নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। তিতাসের পক্ষ থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েও বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তারপরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। কালেভদ্রে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান চললেও আভিযানিক দল এলাকা ছাড়তেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা পুনঃসংযোগ দিচ্ছে। চোর সিন্ডিকেট ও তিতাস কর্তৃপক্ষের ইঁদুর-বিড়াল দৌড়ে সাধারণ মানুষের অভিমতÑ সবই লোক দেখানো।

গত বছরের ২৫ আগস্ট বনানী-গুলশান থানা এলাকায় অবস্থিত কড়াইল বস্তিতে অভিযান চালিয়ে তিতাসের মূল পাইপলাইন থেকে টানা প্রায় ৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাসের ভিজিল্যান্স টিম। কিন্তু আভিযানিক দল মাঠ ত্যাগের ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই হাজার হাজার বাড়িতে আবার চোরাই লাইন টেনে নিয়েছে সংঘবদ্ধ চক্র। তা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। শুধু বেড়েছে পেমেন্টের রেট। সংযোগ বিচ্ছিন্নকালে দেখা গেছে, সেখানে শুধু এক বা দুই ইঞ্চিই নয়, ছয় ইঞ্চি পাইপলাইন থেকেও টানা হয়েছিল অবৈধ লাইন। গতকাল বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লুকোচুরি করে ছয় ইঞ্চি পাইপ থেকে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, এটি তিতাসের লোকজনই দিয়েছিল। টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় অভিযান চালিয়ে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তারা। আবার লাগিয়ে দিয়েছে তারাই।

নিজস্ব সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কড়াইল বস্তির বেলতলা, এরশাদনগর, ভাঙাওয়াল, জামাইবাজার, বউবাজার, গোডাউন বস্তি, আনোয়ারও জামির হোসেন, কুমিল্লাপট্টি এলাকায় অবৈধ গ্যাস-বাণিজ্য সিন্ডিকেটের হোতা ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মন্জিল হক, হুমায়ুন কবির দুলাল, টার্জেন, টোকাই মমিন, লম্বা জসিম, মিজান, রফিক ওরফে গ্যাস রফিক, খাবির হাওলাদার, গ্যাস শফিক, পলাশ, মোতালেব , সালাম, ইউসুফ, মোমিন, টেরা বারেক, বিল্লাল, শাজাহান, মনির, গোডাউন বস্তির পাইপ সামসু, কামাল, জসিম ও পানি আলামিনের শালা । অবৈধভাবে এসব এলাকায় জ্বলছে ৬ সহস্রাধিক গ্যাসের চুলা। বেশিরভাগই ডাবল বার্নার। বস্তিবাসীর কাছ থেকে অফেরতযোগ্য এককালীন ২ থেকে ১০ হাজার টাকা ছাড়াও মাসে প্রতিটি ডাবল বার্নার চুলা থেকে ১২০০ টাকা আর সিঙ্গেল বার্নার থেকে ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব এলাকায় ২৯টি হোটেল থেকে মাথাপিছু ৬০০ আর সহস্রাধিক চায়ের দোকান থেকে দৈনিক মাথাপিছু হারে তোলা হচ্ছে ৫০ টাকা।

মহাখালী সাততলা বস্তির আইপিএস, পোড়াবস্তি, লালমাটি এলাকার গ্যাস-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক হলেন আতর আলী, গ্যাস মানিক কাঠ দুলাল, বিয়ার ইউসুফ, হাসান উজ্জামান, মনিরের বউ, জাকির, দাদা খালেক, জামান, টু-া করিম, ল্যাংড়া জলিল, ঢাকাইয়া শামীম ও মোস্তফা। এখানকার ৩ সহস্রাধিক গ্যাসের চুলার মধ্যে প্রতি ডাবল বার্নার থেকে ১ হাজার টাকা আর সিঙ্গেল বার্নার থেকে ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ১৬টি হোটেল থেকে মাথাপিছু আড়াইশ আর শতাধিক চায়ের দোকান থেকে ৭০ টাকা দৈনিক তোলা হয়।

এদিকে কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার ঝাউচর, হুজুরপাড়া, নার্সারি গলি, মোমিনবাগ, আশ্রাফাফাদ, মাতবরবাজার, বাদশা মিয়ার স্কুলের আশপাশ, মুন্সিরহাটি, নয়াগাঁও আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে ৫ শতাধিক লোহার তৈরি মিকসিপ কারখানা। দিনের বেলায় এগুলো এক রকম বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পরই চোরাই লাইনে টানা গ্যাসে এসব কারখানায় জ্বলে ওঠে বড় বড় ভাট্টি। জানা গেছে, গ্যাস-বাণিজ্যের বিশাল এ নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় প্রভাবশালী রুবেল, জয়নুদ্দিন, জুম্মন, শাহাবুদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন ছাড়াও ১২ জনের একটি সিন্ডিকেট। মাথাপিছু এসব কারখানা থেকে ক্ষমতাসীন দলের কিছু স্থানীয় নেতার নামে তোলা হচ্ছে ৫ হাজার টাকা এবং থানা পুলিশের নামে ৫ হাজার টাকা। তবে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছে কামরাঙ্গীরচর থানার পুলিশ। ওই জোনের তিতাসের অসাধু লোকজনও সমপরিমাণ টাকা পাচ্ছেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।

About dhaka crimenews

Check Also

ঘুষ লেনদেনের সময় পুলিশের এসআইসহ দুইজনকে গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি- ঢাকা ক্রাইম নিউজ: টাঙ্গাইলে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরী দেয়ার কথা বলে ঘুষ লেনদেনের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *