Breaking News
Home / আইন-আদালত / ১৩ হাজার পুলিশের জন্য গোটা পুলিশের বদনাম হয়

১৩ হাজার পুলিশের জন্য গোটা পুলিশের বদনাম হয়

মোল্লা সোহেল-

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় মামলা না নেয়ার ঘটনায় করা এক রিট আবেদনের শুনানিতে আদালত বলেছেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) যেখানে সেখানে কোর্ট বসান, সব জায়গায় রাতে কোর্ট বসান, এত সাহস তারা কোথায় পান?

আদালত আরো বলেন, ওসি মামলা নিলেন না কেন? আমরা রুল দিয়ে দেখি কেন তিনি মামলা নিলেন না?

ওসি সাহেবরা সব জায়গায় কোর্ট বসিয়ে দেন।
ওসি কি সালিশ করতে বসেছেন?

তারা সুবিধামতো হলে মামলা নেবেন।
অথচ টাকা ছাড়া থানায় একটা জিডিও হয় না।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় মামলা না নেয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে করা এক রিট আবেদনের শুনানিতে গতকাল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ উল্লেখিত মন্তব্য করেন।

কিছু পুলিশের জন্য গোটা পুলিশের বদনাম হয় উল্লেখ করে আদালত বলেন, ১৩ হাজার পুলিশ, যারা থানায় বসেন, তাদের জন্য গোটা পুলিশের বদনাম হতে পারে না।

অনেক পুলিশ খুব কষ্টকর জীবন-যাপন করেন।
অথচ অনেকের দেখি চার-পাঁচটা করে বাড়ি।

আদালত জানতে চান দেশটা কি চোরের দেশ হয়ে গেছে?

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সোরা গ্রামের মো: ফজলুর করিমের বাড়িতে হামলা হয়।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে আদালতে রিট করেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা ফজলুর করিম। তার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শামসুল হক কাঞ্চন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

গত ১০ মার্চ প্রাথমিক শুনানিতে আদালত সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে বলেছিলেন।

মঙ্গলবার শুনানিতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম ঘটনার আংশিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।

তখন আদালত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে তদন্ত প্রতিবেদনটি সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়ে আগামী রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে দেন।

এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ স্বর্ণালঙ্কার লুট, হামলা, দরজা ভাঙার কোনো প্রমাণ পায়নি।

কিন্তু পাঁচিল ভাঙ্গার প্রমাণ পেয়েছে। এটা জানানোর পর আদালত বলেন, যেহেতু পাঁচিল ভাঙ্গার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাহলে ঘটনার আংশিক সত্যতা তো পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কেন মামলা নেবে না?

পারিবারিক বিরোধ হওয়ায় ওসি সালিশের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তির কথা বলেছিলেন বলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি জানালে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের কাজ তো এটা নয়।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করে মামলা নেয়া। পরবর্তী তদন্তে যদি ঘটনা মিথ্যা প্রমাণিত হয় তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে বা আসামিদের খালাশ দেবে।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট শামসুল হক কাঞ্চন বলেন, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় ইউসুফ আলী অন্য লোকজন নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সোরা গ্রামের মো: ফজলুর করিমের বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করেন।

এ সময় তারা দুই লাখ টাকা, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দু’টি স্বর্ণের চেইন ও ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করেন। এমনকি ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার সময় তারা বাড়ির সীমানাপ্রাচীরও ভেঙে ফেলেন। কিন্তু ইউসুফ ও ইউসুফের সাথে আসা ব্যক্তিরা ফজলুর করিমের বাড়িতে হামলা চালানোর সময় শ্যামনগর থানার ওসিকে ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে ওসি বলেন, অন্য কাজে তিনি ব্যস্ত আছেন, পরে বিষয়টি দেখবেন।

এরপর ফজলুর করিম কালিগঞ্জ সার্কেলের এএসপিকে ফোনে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চাইলে শ্যামনগর থানার এএসআই ঘটনাস্থলে যান।

কিন্তু ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

তখন ঘটনাস্থল থেকে এএসআই শ্যামনগর থানার ওসিকে ফোন করে বাদি ফজলুর করিমকে ফোন ধরিয়ে দেন ওসির সাথে কথা বলার জন্য।

ওসি তখন ফোনে ফজলুর করিমকে বলেন, ওপর মহলে নালিশ করিস, তোর মামলা হবে না।
কোর্টে মামলা কর।

তখন ফজলুর করিমের বাবা অনুনয়-বিনয় করলে ওসি বলেন, কাল সকালে আবার তদন্ত হবে। সে কথা মতো, শ্যামনগর থানার এসআই মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে বলেন, মামলা হবে না। চেয়ারম্যানের সাথে বসে মীমাংসা করতে বলেন তিনি।

সালিশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ফজলুর করিম সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের কাছে পুরো ঘটনা তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ করেন।

সে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এসপি শ্যামনগর থানার ওসিকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে লিখিত নির্দেশ দেন।

তা সত্ত্বেও ওসি কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এসে গত ৩ মার্চ রিট আবেদন করেন ফজলুর করিম।

About dhaka crimenews

Check Also

নদীর তীর পুনর্দখলের চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শনিবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের খোলামোড়া ঘাটে সীমানা পিলার, ওয়াকওয়ে, নদী তীর রক্ষা প্রাচীর (কিওয়াল) এবং ওয়াকওয়ে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *