Breaking News
Home / অর্থনীতি / রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার

রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার

এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এবার রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তাই রমজান মাস সামনে রেখে ছয়পণ্য আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই সময় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় এমন ছয়টি পণ্য হচ্ছে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর। রমজানে যাতে এ ধরনের পণ্যসামগ্রীর কোনো সংকট তৈরি না হয় সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কারসাজি করে দাম বাড়ানোর কৌশল নেয়া হলে অপরাধী ব্যবসায়ীকে এবার শাস্তি পেতে হবে। রমজান মাস সামনে রেখে চলতি মাসে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করতে যাচ্ছে সরকার। ওই বৈঠকে রমজানের প্রস্তুতি, পণ্যের চাহিদা ও জোগান, টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো এবং ব্যবসায়ীদের করুণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
এদিকে, রমজান উপলক্ষে আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্য সঠিক সময়ে দেশে নিয়ে আসতে হলে এখনই ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, রমজানে ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে ২.৫ থেকে ৩ লাখ টন, চিনি ৩ লাখ টন, ছোলা ৮০-৯০ হাজার টন, খেজুর ১৮ হাজার টন এবং পেঁয়াজ ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টনের। এ ছাড়া ৫০-৬০ হাজার টন মসুর ডালের চাহিদা তৈরি হয়। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে এসব পণ্যের দাম বাড়ার তেমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বরং দাম কমে বাজার এখন স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রোজায় যাতে বাজারে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক থাকে সে জন্য আমদানি বাড়ানোর কথা বলছে সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোজায় জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না। এখন পর্যন্ত রোজায় ব্যবহার হয় এমন সব পণ্যের কোনো সংকট দেশে নেই। এ ছাড়া ওই সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমদানি বাড়ানোসহ যা করুণীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব করা হবে। এ ছাড়া এবার সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা টিসিবির কার্যক্রম আরো বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। জানা গেছে, এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাজারের ওপর নজর রাখবেন সংশ্লিষ্টরা। যে কোনো প্রকার পণ্যে মূল্যের কারসাজি অথবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও ভাবছে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল।
জানা গেছে, সরবরাহ পরিস্থিতি ঠিক থাকলে সরবরাহ জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের ভোগপণ্যের দাম নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। একমাত্র মসুর ডাল ছাড়া অন্য পাঁচটি পণ্যের দাম এখন স্বাভাবিক। জানা গেছে, কারসাজি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে ঢাকার মৌলভী বাজার, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এবং নারায়ণগঞ্জ বন্দরে। এ ছাড়া ভোগ্যপণ্যের আমদানিকারক পর্যায়েও বড় ধরনের কারসাজির কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানান, রোজা সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর তৎপরতা চোখে পড়ে ঠিকই। তবে বরাবরই এফবিসিসিআই এদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর আগে রোজায় এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। এবছরও প্রয়োজন হলে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

About dhaka crimenews

Check Also

চা রফতানিতে বেহাল দশা

দেশের চা রফতানিতে বেহাল অবস্থা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। নব্বইয়ের দশকে বিশ্বে চা রফতানির ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *