Breaking News
Home / অনুসন্ধান / সংবাদ প্রকাশের পর নেই প্রশাসনে ভূমিকা তিতাস কর্মকর্তাদের ভূমিকা রহস্যময়

সংবাদ প্রকাশের পর নেই প্রশাসনে ভূমিকা তিতাস কর্মকর্তাদের ভূমিকা রহস্যময়

হাবিব সরকার স্বাধীন:
ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ রাজধানীতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরির সংঘবদ্ধ চক্র।

সর্বত্রই যখন গ্যাসের তীর্ব সংকট, থেমে নেই এসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। হাজার হাজার বাসাবাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে দেওয়া এসব সংযোগে গ্যাস আসুক আর না আসুক মাসোহারা আদায়ের মাধ্যমে মাস শেষে সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অভিযোগ রয়েছে, এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের দুর্নীতিপরায়ণ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদার।

পিছিয়ে নেই নিজ নিজ থানা এলাকার অসাধু পুলিশ সদস্যরাও। তারা একজোট হয়েই সচল রেখেছে অবৈধ গ্যাস-বাণিজ্যের চাকা।

সিন্ডিকেটে রয়েছে মহাখালী সাততলা বস্তির অবৈধ গ্যাস বিদ্যুতের ব্যবসায়ী নিয়কারী বরিশাইল্লা শামিম, সাদ্দাম, মো: হাবিব, ইলিয়াস, আলামিন, মোদারশেক, বিয়ার ইউসুফ, মানিক, আলমগীর, কারেন্টে ব্যবসায়ী রানা, বাবু।

কড়াইল বস্তি অবৈধ গ্যাস ব্যবসায়ী নেতৃকারী মঞ্জুর হক, রাসেল, চুলা জামির, শিপন গোডাওন বস্তি গ্যাস শামসু।

ডোবা-নালাসহ যত্রতত্র প্লাস্টিক পাইপসহ নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে টানা এসব অবৈধ সংযোগে গ্যাস চুরির মাধ্যমে সরকার শুধু যে বিপুল পরিমাণ রাজস্বই হারাচ্ছে তা নয়, গ্যাসের সরবরাহ লাইন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

এসব অবৈধ লাইনে হরহামেশায় ঘটছে দুর্ঘটনা।
তিতাসের থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গণমাধ্যমে খবর হলেই পোয়াবারো হয় তিতাসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ঘুষের রেট বাড়াতে সুবিধা হয়। এদিকে তিতাস কালেভদ্রে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান চালালেও অভিযান-দল এলাকা ছাড়তেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা দিয়ে দিচ্ছেন পুনঃসংযোগ।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে এরপর আর অভিযান চালায় না কর্তৃপক্ষ। গ্যাসের ওপর চাপ বাড়ার ফলে বৈধ সংযোগকারীদের চুলা নিভু নিভু করে জ্বললেও নজর নেই কর্তৃপক্ষের। উল্টো তীব্র গ্যাস-সংকটে অতিষ্ঠ ভুক্তভোগীরা তিতাসে অভিযোগ জানালেও সাড়া দিচ্ছেন না তারা।

গ্যাস-সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে গত ১৮ এপ্রিল তিতাসের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেন মো: কাওসার আহমেদ নামে এক ভুক্তভোগী। কাওসার আহমেদের মতো আরও অনেকেই অবৈধ গ্যাস-সংযোগ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

কিন্তু কর্ণপাত করেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ। এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর যেসব এলাকায় নতুন আবাসন গড়ে উঠেছে, সেখানেই রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি।

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা প্রায় সব বস্তিতেই চোরাই লাইনে টানা গ্যাসে জ্বলছে চুলা। বনানী থানা এলাকায় অবস্থিত কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তি এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

অবৈধভাবে টানা শুধু গ্যাস খাতে বস্তি দুটি থেকে মাসে এক কোটি টাকারও বেশি চাঁদা তোলা হচ্ছে। বনানী থানা পুলিশের নামেও উঠছে মাসোহারার টাকা।

তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বনানী থানা পুলিশ। এছাড়া স্থানীয় মাস্তান বাহিনী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, ওই জোনের তিতাসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের নামে মাসের নির্ধারিত তারিখে পৌঁছে যাচ্ছে ২০ লাখ টাকারও বেশি চাঁদা।

গত বছরের ২৫ আগস্ট বনানী-গুলশান থানা এলাকায় অবস্থিত কড়াইল বস্তিতে অভিযান চালিয়ে তিতাসের মূল পাইপলাইন থেকে টানা প্রায় ৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাসের ভিজিল্যান্স টিম।

কিন্তু আভিযানিক দল মাঠ ত্যাগের ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই হাজার হাজার বাড়িতে আবার চোরাই লাইন টেনে নিয়েছে সংঘবদ্ধ চক্র। তা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। শুধু বেড়েছে পেমেন্টের রেট।

সংযোগ বিচ্ছিন্নকালে দেখা গেছে, সেখানে শুধু এক বা দুই ইঞ্চিই নয়, ছয় ইঞ্চি পাইপলাইন থেকেও টানা হয়েছিল অবৈধ লাইন।

গতকাল বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লুকোচুরি করে ছয় ইঞ্চি পাইপ থেকে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, এটি তিতাসের লোকজনই দিয়েছিল। টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় অভিযান চালিয়ে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তারা। আবার লাগিয়ে দিয়েছে তারাই।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনো সেখানে বহাল তবিয়তে চলছে চোরাই গ্যাসের রমরমা বাণিজ্য। এসব এলাকা ছাড়াও রাজধানীরবিভিন্ন এলাকায় শত-শত শিল্প-কারখানা ও বাসাবাড়িতে অবৈধ গ্যাসলাইনে চুলা-ভাট্টি জ্বলছে বলেও জানা গেছে।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) মো: ওহেদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তিতাসে কর্মরত বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও।

এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। কিন্তু তার পরও থামছে না অবৈধ সংযোগ ও গ্যাস লুটের রাম রাজত্ব।

ভুক্তভোগীরা এ প্রতিবেদককে জানান, যে কর্তৃপক্ষ দুর্নীতিবাজদের লাগাম ধরবে সে প্রতিষ্ঠান নিজেই দুর্নীতির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য নতুন ফরমূলা আবিস্কার করা ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই।

About dhaka crimenews

Check Also

লাইফ সাপোর্টে কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী

জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সুবীর নন্দীকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রোববার রাত ১০টার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *