Home / ক্রাইম নিউজ / র‍্যাব-পুলিশ ঢুকে দেখে কাফনে মোড়ানো শিশুর লাশ

র‍্যাব-পুলিশ ঢুকে দেখে কাফনে মোড়ানো শিশুর লাশ

দরজার ফুটো দিয়ে ভেতরের অবস্থা দেখার চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য। ছবি: আবদুস সালাম
রাজধানীর বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ির ভেতরে ঢুকে এক শিশুর লাশ দেখতে পেয়েছে র‍্যাব ও পুলিশ। আজ বুধবার সকালে ওই বাসায় এক বাবা তাঁর দুই শিশুসন্তানকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছেন—এমন সংবাদে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিছুক্ষণ পরে র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যেরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পুলিশ ও র‍্যাব ভেতরে ঢুকে ওই শিশুর লাশ দেখতে পেয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে।

শিশুটির নাম নূর সাফায়েত। তাঁর বয়স আনুমানিক আড়াই বছর।

বাড়িটির সামনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও উৎসুক জনতা। ছবি: আবদুস সালাম
বাড়িটির সামনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও উৎসুক জনতা। ছবি: আবদুস সালাম
র‍্যাব-২–এর এসআই শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি শিশুটির বাবা বসে আছেন, তাঁর পাশে একজন হুজুর বসে আছেন। শিশুটিকে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো একটি টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে। শিশুটির বাবাকে কোনো সাহায্য লাগবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনাদের কারও সাহায্য লাগবে না। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান। বেলা একটার দিকে আমি নিজে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে আমার ছেলেকে দাফন করব।”’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘ওই বাসায় একটি শিশু মারা গেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। শিশুটির বয়স আড়াই থেকে তিন বছর।’ তিনি জানান, শিশুর বাবা এর আগে মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জেলেও পাঠানো হয়।

বাড়ির সামনে উৎসুক জনতা। ছবি: আবদুস সালাম
বাড়ির সামনে উৎসুক জনতা। ছবি: আবদুস সালাম
শিশুটির বাবার নাম নুরুজ্জামান কাজল। কাজলের বাবার নাম মনু মেম্বার। পরিবারের সদস্যেরা জানান, এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে মনু মেম্বারের পরিবারের। কাজলের আচার-আচরণের জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁর ওপর বিরক্ত ছিলেন।

স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকতেন কাজল। পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তাঁর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে তাঁর স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা আকিল জামান বলেন, কয়েক মাস আগে স্ত্রীকেও মারধর করেন কাজল। প্রতিবেশীরা এসে তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। নির্যাতন সইতে না পেরে স্ত্রী চলে গেছেন। বাচ্চা দুটো বাবার সঙ্গে ছিল।

বাড়ির সামনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। ছবি: আবদুস সালাম
বাড়ির সামনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। ছবি: আবদুস সালাম
ঘটনা শুনে নুরুজ্জামান কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল ঘটনাস্থলে এসেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজল বাসা থেকে বের হয়ে পাশে থাকা মাদ্রাসায় গিয়ে জানান, তাঁর ছোট ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এটা যেন মাইকে ঘোষণা করা হয়। তারপর মাদ্রাসার ছাত্রদের পবিত্র কোরআন খতম দেওয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে তাঁর সঙ্গে যান। এখনো তিনি ভেতরে আটকা আছেন। মাইকে সংবাদ শুনে আমি আসি। ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। কিন্তু কাজল ঢুকতে দেননি। দরজা আটকে দিয়েছেন। কাজলের সঙ্গে তাঁর বড় ছেলে সুরায়েত (৪) আছে।’

নুরুল হুদা উজ্জ্বল অভিযোগ করেন, তাঁর ভাই নুরুজ্জামান কাজল দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলেকে হত্যা করেছেন। তাঁর হাতে রামদা ছিল।

About dhaka crimenews

Check Also

সেই শিশু হত্যার অভিযোগে বাবার বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

রাজধানীর বাংলামোটরে নূর সাফায়েত নামে দুই বছর বয়সী শিশুকে হত্যার অভিযোগে গতকাল বুধবার রাতে শাহবাগ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *