Home / খেলা / ঘূর্ণিতে বাজিমাতের বছর

ঘূর্ণিতে বাজিমাতের বছর

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এ বছর সর্বোচ্চ উইকেট তাইজুলের। ছবি: প্রথম আলো
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এ বছর সর্বোচ্চ উইকেট তাইজুলের। ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশের স্পিনশক্তি বরাবরই পেস আক্রমণের চেয়ে ভালো। এ বছর পরিসংখ্যানেও পেসারদের ছাপিয়ে গেছেন স্পিনাররা
‘তুমি এমনই জাল পেতেছ সংসারে

কার বা এমন সাধ্য আছে
এই মায়াজাল ছিঁড়ে যেতে পারে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানরা বাংলা জানলে নিশ্চিত এই গানটা আওড়াতেন। সাকিব-মিরাজ-তাইজুল-নাঈমদের পাতা স্পিনের জাল যে ছিঁড়ে বেরোতে পারেননি তাঁরা! ফাঁদে আটকে ছটফট করতে করতেই দিয়ে এসেছেন উইকেট। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, দুই টেস্টেই ১০-এর নামতা পড়ে উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। দুই টেস্টের সিরিজে কোনো এক দলের স্পিনারদের ৪০ উইকেটের সব কটি নিতে এর আগে কেউ দেখেনি।

তাতে অন্য এক উচ্চতাতেও উঠে গেছেন সাকিবরা। ২০১৮ সালে আট টেস্টে বাংলাদেশের স্পিনাররা নিয়েছেন ১১৯ উইকেট। বাংলাদেশের স্পিনাররা এক পঞ্জিকাবর্ষে এর আগে সর্বোচ্চ ৭৯ উইকেট পেয়েছিলেন ২০১৪ সালে খেলা ৭ টেস্টে। এ বছরের মতো সেই বছরও বাংলাদেশ জিতেছিল তিনটি টেস্ট। এবারের মতো সেবারও তিনটি জয়ই ছিল দেশের মাটিতে।

‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছিল না দাবি করতেই পারে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ও জিম্বাবুইয়ানরা। তবে দেশের মাটিতে ফরমায়েশি উইকেটেই সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা, ব্যাপারটা এমন নয় মোটেই। এবার আট টেস্টের ছয়টিই বাংলাদেশ খেলেছে নিজেদের মাঠে। পরিসংখ্যানটা তাতে প্রভাবিত হলেও বছরের একমাত্র সফরে ক্যারিবিয়ানেও ঝলমলে রেকর্ড বাংলাদেশের স্পিনারদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসবান্ধব উইকেটে ক্যারিবীয়দের ৩০ উইকেটের ২২টিই নিয়েছেন স্পিনাররা।

বাংলাদেশের স্পিনাররা ব্যর্থ শুধু বছরের প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। চট্টগ্রামের পাটা উইকেটে একমাত্র ইনিংসে ৯ উইকেটে ৭১৩ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। এই ৯ উইকেটের ৮টি পেলেও রান কম বিলোতে হয়নি সাকিববিহীন স্পিন আক্রমণকে। ৪ উইকেট নিতে তাইজুল ইসলাম খরচ করেছিলেন ২১৯ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩ উইকেট পেয়েছিলেন ১৭৪ রানে। ১ উইকেট নিতে সানজামুলের খরচ ১৫৩ রান।

স্পিনারদের দুর্দশার দিন ওখানেই শেষ। মিরপুরে পরের টেস্টে চার বছরের নির্বাসন থেকে ফেরানো হলো অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাককে। ফিরেই ইনিংসে ৪ উইকেট রাজ্জাকের, সঙ্গী তাইজুলও নিলেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল-রাজ্জাক-মিরাজরা মিলে নিলেন ৭ উইকেট। ম্যাচে বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়েও ভালো করলেন লঙ্কান স্পিনাররা। ফল, বাংলাদেশের হার।

এরপর ক্যারিবিয়ানে ‘৪৩’ রানের ম্যাচে বোলাররা সুযোগ পেলেন মাত্র এক ইনিংসে বোলিং করার। তাতেও সাকিব-মিরাজ-মাহমুদউল্লাহরা মিলেই পেলেন ৬ উইকেট। কিংস্টনে পরের ম্যাচে প্রথম ইনিংসে মিরাজ পেলেন ৫ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিব ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিংটাই করলেন, ৩৩ রান দিয়ে পেলেন ৬ উইকেট।

পরের সিরিজটা দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সিলেটে তাইজুলের ১১ উইকেট। যদিও ম্যাচটা হেরেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম ইনিংসে তাইজুল ৫ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজ ৫ উইকেট, জিতল বাংলাদেশও। এরপর এল ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশ দলে এলেন তরুণ তুর্কি নাঈম হাসানও। এসেই ৫ উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট পেলেন আঙুলের চোট থেকে ফিরে আসা সাকিব। মিরপুরে তো মিরাজ ভাঙলেন বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচসেরা বোলিংয়ের নিজের রেকর্ড।

আরেকটি টেস্ট হাতে থাকলে কী হতো কে জানে। তবে এটা নিশ্চিত সাকিব-তাইজুল-মিরাজ-নাঈমদের ঘূর্ণিজালে ধরা পড়ত আরও কিছু শিকার।

About dhaka crimenews

Check Also

জাতীয় দাবায় ১৪তম শিরোপা জিতলেন জিয়া

৪৪তম জাতীয় ’এ’ দাবা চ্যাম্পিয়শিপের শিরোপা জিতেছেন গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান। ১০ খেলায় সাড়ে আট ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *