Home / জাতীয় / ২১তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহে, ৪ কোটি ৬ লাখ শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হবে

২১তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহে, ৪ কোটি ৬ লাখ শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হবে

মোল্লা সোহেল-

ঢাকা ক্রাইম নিউজ: আজ থেকে ৭ই অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ২১তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ পালন শুরু হচ্ছে। এবার ওষুধ সেবনকারী শিশুর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই সপ্তাহ পালন ও ক্ষুদে ডাক্তারদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী সকল শিশুকে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী সকল শিশুকে একডোজ কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করানো হবে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে ‘জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ ও ক্ষুদে ডাক্তার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম-এর আওতায় অক্টোবর-২০১৮’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্টরা এই তথ্য জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার একটি অংশ হচ্ছে ফাইলেরিয়াসিস নির্মূল, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রম। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কৃমি নির্মূলের লক্ষ্যে ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসে দেশে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী ক্ষুদে ডাক্তারের মাধ্যমে কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উদ্‌যাপিত হতে যাচ্ছে। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উদ্‌যাপন করার লক্ষ্য হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী সকল (স্কুলগামী, স্কুলবহির্ভূত, স্কুল থেকে ঝরে পড়া) শিশুকে একডোজ কৃমিনাশক ওষুধ বিনামূল্যে সেবন করানো। একই সঙ্গে কৃমির পুনঃসংক্রমণ রোধকল্পে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার সম্বন্ধে সচেতন করে তোলা। এসব শিশুদেরকে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়ার ফলে তা অভ্যাসে পরিণত হবে। যা ভবিষ্যতে শিশুরা কৃমিসহ অন্যান্য পরজীবীবাহিত রোগব্যাধি থেকেও পরিত্রাণ পাবে।
কৃমির ক্ষতিকর দিক: কৃমির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বলেন, কৃমি মানুষের পেটে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং খাবারের পুষ্টিটুকু খেয়ে ফেলে, যার দরুন শিশুরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতায় ভোগে। কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে রক্ত শোষণ করে। ফলে শিশুরা রক্তশূন্যতায় ভোগে। বদহজম, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটায় ফলে শিখন ক্ষমতা হ্রাস পায় ও শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় থাকতে বাধা সৃষ্টি করে। এপেন্ডিসাইটিস এবং অন্ত্রের অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করে, যার ফলে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। কৃমির অতিশয় সংক্রমণ মৃত্যুর কারণও হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উল্লেখ করেন।
কৃমি নিয়ন্ত্রণ: কৃমি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তারা বলেন, পরিবারের সবাই একত্রে বছরে কমপক্ষে দুইবার (৬ মাস পর পর) কৃমির ওষুধ সেবন করা। খালি পায়ে চলাফেরা না করা এবং পায়খানা ব্যবহারের সময় স্যান্ডেল পরা। পায়খানার পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা। হাতের নখ ছোট রাখা আর এ জন্য সপ্তাহে একবার নখ কাটা। খাদ্যদ্রব্য ঢেকে রাখা। খোলা বা অপরিচ্ছন্ন খাবার না খাওয়া, ফল-মূল খাওয়ার আগে তা নিরাপদ পানি দ্বারা ধোয়া এবং প্রতিবার খাবার গ্রহণের পূর্বে হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা। ২০১৫-২০১৬ সালের এক জরিপে (শিশুদের মলে কৃমির ওভা বা ডিমের উপস্থিতি) কৃমি সংক্রমণের হার ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে বলে তুলে ধরা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের বিশেষ জরিপে (আইসিএসপিএম) কৃমি সংক্রমণের হার পাওয়া যায় ১১ ভাগ। সেটা ২০০৫ সালে ৫ থেকে ১৪ বছরের বয়সী শিশুর মধ্যে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে ৫৫ বছরের অধিক তাদের মধ্যে এই হার ৪ শতাংশ ছিল। ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের হার সর্বাধিক বিধায় ১২ বছর বা তার অধিক বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করতে দেশের সকল মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল রাউন্ড থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় ১২ থেকে ১৬ বয়সী সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মাধ্যমে কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের মাঝে ওষুধ সেবনের হার প্রত্যেক রাউন্ডেই ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ,
ফাইলেরিয়াসিস নির্মূল, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রমের ডিপিএম ডা. মোঃ জহিরুল করিম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাউসার সাবিনা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডা. মজিবুর রহমান।

About dhaka crimenews

Check Also

অর্ধ শতাধিক ওয়েবসাইট বন্ধের নির্দেশ

রিপোটার : আবদুল কালাম আজাদ মিথ্যা তথ্য দিয়ে নির্বাচনের আগে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ৫৮টি ওয়েবসাইট ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *