Home / ক্রাইম নিউজ / বাংঙ্গারী মন্জুল হক থেকে করাইল বস্তির ইয়াবা,গ্যাস,পানি ও নারী ব্যাবসার সম্রাট মন্জুল হক।

বাংঙ্গারী মন্জুল হক থেকে করাইল বস্তির ইয়াবা,গ্যাস,পানি ও নারী ব্যাবসার সম্রাট মন্জুল হক।

ক্রইম রিপোটার স্বাধীন: রাজধানীর বনানী এলাকার কড়াইল বস্তির স্বঘোষিত মহারাজা ইয়াবা সম্রাট মনজিল হক ওরফে মঞ্জুল হক ইয়াবা ব্যবসায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত মাদকমুক্ত দেশ গড়ার অংশ হিসেবে প্রশাসনের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালীন সময়ে মনজিল হক পালিয়ে থাকলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর ফের প্রকাশ্য এসেছে। তবে সে এবার তার লেবাসের কিছুটা পরিবর্তন করে প্রকাশ্যে এসেছে। যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চমক সৃষ্টি হয়েছে। কখনো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবার কখনো প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তাকে বোতল বন্ধি করে কড়াইল বস্তিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রমরমা ইয়াবা ব্যবসা করে যুবসমাজকে ধ্বংস দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর তাই ঢাকা ক্রাইম নিউজ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মনজিলের একাদিক অপরাধ কর্মের মধ্যে মাদক ব্যবসার রুপরেখা নিয়ে এবারের প্রতিবেদন।তার সাথে যোগাযোগ করলে বলে আমি পুলিশকে টাকা দিয়ে কাজ করি সাংবাদিক চিনি না।অনুসন্ধানে জানা গেছে, কড়াইল বস্তির স্বঘোষিত মহারাজা মনজিল হক। ভাঙ্গারী ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে ৫শ টাকা রোজগার করতে তার সময় লাগতো তিন দিন। তবে তিনি যেই আলাদিনের প্রদীপের জোড়ে কোটিপতি হয়েছে তার মধ্যে মাদক ব্যবসা অন্যতম। ইয়াবা ব্যবস্যায় রাতারাতি কোটিপতি হয়ে ইয়াবা ব্যবসার সাথে আরো কিছু অবৈধ ব্যবসা দিয়ে সে নিয়ন্ত্রন করছে কড়াইল বস্তি সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। এক সময়ে খুচরা ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী মনজিল এখন ইয়াবার ডিলার। আর এই ইয়াবা ব্যবসায় সে গড়ে তুলেছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। যাদের মাধ্যমে সে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে। ইয়াবার ডিলার মনজিলের সাথে সিন্ডিকেট করে কড়াইল বস্তির একেক এলাকা একেক জন মাদক সম্রাট নিয়ন্ত্রণ করে। তবে মনজিল সব সময়ই ধরা ছোয়ার বাইরে থাকে। কারন সে মোটা টাকায় বিভিন্ন সেক্টরকে ম্যানেজ করেই ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে। প্রশাসনের চাপ বেড়ে গেলে মনজিল হক তাবলীগ জামাতে চলে যায় বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়। সুত্র জানায়, কাসেম ওরফে বাবা কাসেম কড়াইলের ইয়াবা ব্যবসায় মনজিলের অন্যতম সহযোগি। কাসেমের নিয়ন্ত্রনে বউবাজার বস্তির মধ্যে ইয়াবা ব্যবসা করে হারুন মিয়া, তার শ্যালক গুড্ডু ও সজীব। কাসেমের ঘনিষ্ঠ পার্টনার মোস্তফা। এরা দুজনে মনজিলের টাকায় টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান বনানীতে নিয়ে আসে। রাস্তায় কোন ঝামেলা হলে মনজিলই তা নগদ টাকার বিনিময়ে সমাধান করে। অথবা কেউ গ্রেপ্তার হলে টাকা খরচ করে মনজিলই তাকে জামিনে বের করে আনে। এতে মনজিলের প্রতি তার সিন্ডিকেটের লোকজনের বিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। মাছ বাজারের ওসমানের ছেলে আফাজ ও আসেক, ঝিলপাড়ের চিরতার ছেলে ইব্রাহিম, সাইদুল ইসলাম ক ব্লকের জসিম ও তার বোন পারভীন ও বউবাজার খামারবাড়ির শাহীন, রফিক, বাদল ও নরুল ইসলাম সহ আরো কয়েকজন মোস্তফার নিয়ন্ত্রনে খুচরা বিক্রেতা। এরা সবাই মোস্তফার নিটক থেকে পাইকারীতে ইয়াবা ক্রয় করে খুচরা বিক্রয় করে। এদিকে স্যাটেলাইট বস্তি এলাকার ঢাকা মহানগরের নেতাদের নাম ভাঙ্গীয়ে স্থানীয় শ্রমিক লীগের নেত্রী তাছলি ওরফে সুন্দরী তাছলি। মাদক ব্যবসা করে সে মনজিলের চাইতে এক ধাপ উপরে। একারনে মনজিলের সাথে তার সুসম্পর্ক। তাসলির রয়েছে কিছুটা রাজনৈতিক ক্ষমতা। যার বলে সেও বেশীর ভাগ সময়ই থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে। প্রশাসনের সাথে রয়েছে তার দহরম মহরম সম্পর্ক। যার কারনে কোন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কখন কি ব্যবস্থা নিচ্ছে তার আগাম খবর সে পেয়ে যায় খুবই দ্রুত। একারনে মনজিলের ব্যবসায় কোন অসুবিধা হয় না। তাসলির এক বিশ্বস্ত সহযোগি জোছনাকে প্রায় দুই বছর আগে কড়াইলের টি এন্ড টি বস্তি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল কড়াইল মাদক প্রতিরোধ কমিটি। এসময় তাসলির শেল্টারে মনজিল থাকে অনেটাই নিরব। জোসনা বর্তমানে নাখালপাড়ায় থাকলেও থেমে নেই তার মাদক ব্যবসা। টাকা ও ইয়াবা দুটো দিয়ে জোসনাকে সহযোগিতা করে মনজিল আর বখরা পায় তাসলি। তাসলির সতিন হাছিনা পারভীন ও তার স্বামী মোস্তফার নিয়ন্ত্রণে কড়াইলে অন্তত ২৫ জন খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মনজিলের মতো অসংখ্য পাইকার ব্যবসায়ী রয়েছে। এ ছাড়া জামাইবাজারের আবদুল খালেকের ছেলে জসিম, জিল্লু, রাসেল ওরফে ফরমা রাসেল, সীমা ও মোশারফ বাজারের শহিদুল ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল সহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাদকসেবিরোধী অভিযান ঘোষণার পর থেকেই সারাদেশে র‌্যাব-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিশেস অভিযান শুরু করে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র‌্যাব-পুলিশের ‘বন্দুযুদ্ধে’ নিহতের বহু ঘটনাও ঘটছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য মাদক নির্র্মূল করা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তারা বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এমন কড়াকড়ি নজরদারির পরেও মনজিল হক সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফের মাদক ব্যবসায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই নিয়ে স্থানীয় জনসাধারনের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রশাসনের প্রতি তাদের দাবী খুব দ্রুত মনজিল সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা নাহলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।

About dhaka crimenews

Check Also

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ৬২৫০টি মামলা

স্টাফ রিপোটার:ব্যস্ততম ঢাকায় কে কার আগে ছুটবে তারই যেন প্রতিযোগিতা। ছুটে চলার এই শহরে কেউ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *