Home / ক্রাইম নিউজ / মহাখালীতে যুবলীগ কর্মী খুন ইউসুফ বলে, রাশেদকে আজ ফালাইয়া দিমু

মহাখালীতে যুবলীগ কর্মী খুন ইউসুফ বলে, রাশেদকে আজ ফালাইয়া দিমু

ক্রাইম রিপোটার যুবরাজ:
রাজধানীর মহাখালীতে যুবলীগ কর্মী কাজী রাশেদ হত্যার প্রধান আসামি বনানী থানা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেল ওরফে সুন্দরী সোহেলকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান তিনি। হত্যার ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। রাশেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর জাকির হোসেন নামে এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেলের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। গত ১৫ জুলাই ভোরে মহাখালীর বন ভবনের পেছনে সোহেলের অফিসের পাশ থেকে রাশেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জাকির আদালতে এবং তদন্ত-সংশ্নিষ্টদের বলেছেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সোহেল তাকে মোবাইল ফোনে নিজের অফিসের সামনে আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি সেখানে এসে সোহেল, ফিরোজ, দীপু, হাসু, কাজী রাশেদসহ আরও দু-তিনজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সোহেল ও ফিরোজ তাকে একটু দূরে ডেকে নিয়ে বলেন, ‘আজ রাশেদকে ফালাইয়া দিমু, তুই নিচে পাহারায় থাকিস। কেউ যেন ওপরে যেতে না পারে।’ রাশেদকে নিয়ে সোহেল, ফিরোজ, হাসু. দীপু ও আরও দু-তিনজন তৃতীয় তলায় সোহেলের অফিসে যান। কয়েক মিনিট পর গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যে সোহেল ও অপরিচিত একজন নিচে নেমে আসেন এবং তার হাতে একটি ছোট বাক্স দিয়ে তাকে চলে যেতে বলে বেরিয়ে যান তারা। এর পরপর হাসু, ফিরোজ, দীপুসহ চারজন রাশেদের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ ধরাধরি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন এবং গেটের বাইরে ওয়ালের পাশে ফেলে দেন।

গত ৮ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এই জবানবন্দি দেন জাকির। এর আগে ৭ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। মামলাটি তদন্ত করছে তারা। বনানী থানা থেকে গত ২৯ জুলাই মামলাটি সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, জাকির হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্তাধীন মামলায় এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

জানা যায়, নিহত রাশেদের বাসা মহাখালীতে। বাসা নম্বর জিপি-গ/৪২। এটি তার পৈতৃক বাড়ি। স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করতেন। সুন্দরী সোহেলের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। বাসায় রাতে ঘুমানোর সময়টুকু ছাড়া বাকি সময় কাটাতেন তার সঙ্গে। বনানী ও মহাখালী এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন সোহেল। গভীর রাত পর্যন্ত তার অফিসে আড্ডা চলত। বছরখানেক আগে তার সঙ্গ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন রাশেদ। কিন্ত সোহেল যেতে বাধা দেন তাকে। কারণ সোহেলের অনেক অপকর্মের সাক্ষী ছিলেন তিনি। এ ছাড়া তার চাঁদাবাজির টাকার হিসাবও রাখতেন রাশেদ। এই টাকার কিছু অংশ তিনি আত্মসাৎ করতেন, এমন সন্দেহ ছিল সোহেলের। এসব নিয়ে দ্বন্দ্ব বেড়ে যায় তাদের মধ্যে। হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল রাশেদকে। অবশেষে ১৪ জুলাই রাতে সোহেলের অফিসে তাকে সাতটি গুলি করে হত্যার পর লাশ পাশের গলিতে ফেলে রাখা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করেন মামলার তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা। তাতে তারা দেখতে পান- হাসু, দিপু, জহুরুল ও ফিরোজ নিহত রাশেদের চার হাত-পা ধরে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। হাত পলিথিন দিয়ে জড়ানো ছিল তাদের। এই চারজন সোহেলের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ১৫ জুলাই সকালে লাশ উদ্ধারের পর রাশেদের স্ত্রী মৌসুমি আক্তার বনানী থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি ইউসুফ সরদার সোহেল। এ ছাড়া হাসু, দিপু, ফিরোজসহ অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে বলা হয়, সোহেল ও রাশেদ একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। জোরপূর্বক তাকে নেশা করাতেন সোহেল। জুনের প্রথম দিকে সোহেল তাকে মারধরও করেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকবেন না বলে জানিয়ে দেন রাশেদ। এরপর থেকে সোহেল হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

এদিকে রাশেদ হত্যার কয়েকদিন পর ১৯ জুলাই বনানী থানা পুলিশ সোহেলের অফিস তল্লাশি করে চারটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে পুলিশ। সোহেলসহ হত্যা মামলার আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক। সোহেলের স্ত্রীও বাসায় নেই। মোবাইল ফোন বন্ধ। পুলিশের ধারণা, সোহেলের সঙ্গেই রয়েছেন তার স্ত্রী।

About dhaka crimenews

Check Also

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ৬২৫০টি মামলা

স্টাফ রিপোটার:ব্যস্ততম ঢাকায় কে কার আগে ছুটবে তারই যেন প্রতিযোগিতা। ছুটে চলার এই শহরে কেউ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *