Home / ক্রাইম নিউজ / বনানী থানার পুলিশের সোর্স ভয়ংকর: ভয়ঙ্কর সব অপরাধের মূলে সোর্স

বনানী থানার পুলিশের সোর্স ভয়ংকর: ভয়ঙ্কর সব অপরাধের মূলে সোর্স

ক্রাইম রিপোটার স্বাধিন:
বনানী থানা পুলিশের সবচেয়ে পুরনো সোর্স শহীদ ওরফে ফর্মা শহীদ। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রবহন-ব্যবহার, হুমকি-ধামকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বনানী এলাকার নকল হিজড়াদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করেন বনানী থানার পুলিশ সোর্স শহীদ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বনানী থানা পুলিশের কথিত সোর্স শহীদকে ২০০৫ সালে বিস্ফোরক ও অবৈধ অস্ত্রসহ বনানী ২ নম্বর রোড এর হিন্দুপাড়ার বস্তি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই শহীদ পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতে থাকেন। প্রথমে গুলশান থানায় বর্তমানে বনানী থানায়। পুলিশের সাথে সম্পর্কের সুবাদে দিনদিন তার অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাখালী টিএন্ডটি মাঠের পাশে গোডাউন বস্তিতে শহীদের ঘরে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেনসিডিল, বিয়ার ও মদের জমজমাট ব্যবসা চলছে। অভিযোগ আছে, তার ঘরে প্রতিদিন জুয়া খেলা চলে। এসময় পুলিশের চক্ষে ধুলি দিতে সোর্স শহীদের ঘরের বাইরে রাস্তায় তাক করে সিসি ক্যামেরা লাগানো। ঘরে বসে বাইরের চিত্র দেখা যায়। ক্যামেরায় বিপদ দেখলেই শহীদ পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোর্স শহীদ বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সময় গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে বাড্ডা, শাহজাদপুর, বারিধারা ডিওএইচ অথবা তার শশুরবাড়ী কুমিল্লায় আত্মগোপন করে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পূনরায় ফিরে এসে অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যায়। এতে তাকে খোজ-খবর দিয়ে সহযোগীতা করে বনানী থানা পুলিশের ক’জন পুলিশ।

জানা গেছে, বর্তমানে বনানী থানার এএসআই ওমর ফারুক, এসআই তাহের ভুঁইয়া, কনস্টেবল সহিদুল ও কনস্টেবল মিয়া হোসেনের প্রশ্রয়ে সোর্স শহীদের অপরাধের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। শহীদকে সাথে নিয়ে এরা ডিউটি ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইসহ যা করে তাকে অপহরন বলে। এছাড়া তারা মাদক ব্যবসার মূল রুই-কাতলা। এই গোটা সিন্ডিকেটটার কারনে বহু নিরীহ লোক বিনা দোষে ফেঁসে মামলায় জেল খাটছে। শুধুমাত্র তাদের লোভের শিকার হয়ে বহু নিরপরাধ পরিবার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পুলিশের এসব অর্থলোভী কর্মকর্তারা বানিজ্য করার জন্য অথবা পয়েন্ট বাড়িয়ে প্রমোশন পেতে সোর্স শহীদের কথা মতে অনেক সময় যাকে তাকেই গ্রেফতার করে মামলা দিচ্ছে।

জানা যায়, সোর্স শহীদ এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও নিরীহ লোককে গ্রেফতার করানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে। তার চাহিদা মতে চাঁদা না দিলে পুলিশকে মিথ্যা তথ্যদিয়ে গ্রেফতার করিয়ে রিমান্ডে আনার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান জোনের (গুলশান, বনানী) সহকারী কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, সোর্সদের প্রতি তার কোনো বিশ্বাস নেই। এসআই বা এএসআইরা সাধারণত সোর্স ব্যবহার করেন। আমি যখন এসআই ছিলাম তখন সোর্স ব্যবহার করিনি। যখন ওসি ছিলাম তখনও সোর্স ব্যবহার করতে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করেছি।

তিনি বলেন, গুলশান-বনানীতে এখন সোর্স নেই। তবে আগে যারা সোর্স হিসেবে কাজ করত তারা হয়তো এখনও সোর্স পরিচয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। গুলশান বিভাগের একাধিক থানা পুলিশ এরই মধ্যে কয়েকজন সোর্সকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনানী ২ নম্বর রোডের সরকারী ঝিলের বেশ কিছু অংশে মাটি ভরাট ও দখল করে সোর্স শহীদ ঘর তুলেছে। প্রথমে নিজে থাকত পরবর্তীতে রাতের আধারে মাটি ভরে দখল করে একে একে প্রায় ১৫টি দোকান ও ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছে। এসব ঘরে যারা থাকে তার অধিকাংশই নকল হিজড়া, চোর অথবা মাদক ব্যবসায়ী।

বনানী গোডাউন বস্তির সফিক জানান, শহীদ অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বলে বস্তির মানুষ তাকে ভয় পায়। এছাড়া তাকে কিছু বললে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়।

জানা যায়, শহীদ পুলিশের হেন্ডকাফ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও পুলিশ লেখা মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। অনেকে তাকে পুলিশই মনে করে। ভুল ও নিরিহ মানুষ ধরিয়ে চাঁদা আদায় করতে না পারলে মিথ্যা মামলা দেয়া এখন শহীদের নেশায় পরিনত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তার চলাফেরার কারণে সাধারণ মানুষজনকে থাকতে হচ্ছে আতঙ্কে।

জানা গেছে, বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু মামলা থাকা সত্বেও শহীদ পুলিশের সাথে ঘুরে বেড়ায়। শুধু তাই নয় বুুক ফুলিয়ে মাদক ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছে। ২০ নং ওয়ার্ডের মাদক ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল না কিনলে অথবা বাধা দিলে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মহাখালী ওয়ারলেস গেট টিএন্ডটি পূর্ব কলোনীতে আবদুর রহমান মাসুম ওরফে মোল্লা মাসুমের মাদক স্পট, ওয়ারলেস গেট মোড় আজাদ পার্কে মোতালেবের চা দোকান মাদক স্পট, টিএন্ডটি বালিকা স্কুল রোডে মহান স্টুডিও সংলগ্ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সায়েমের মাদক স্পট, হাজাড়িবাড়ি দাদা ভবনের পেছনে আব্দুল আলীর ছেলে শরীফের মাদক স্পট, বনানী গোডাউন বস্তির ময়নার মা ও মফিজের গাজার স্পট এবং সোর্স হারুনের ইয়াবা স্পট, চেয়ারম্যান বাড়ি পিচ্ছি জাকিরের ফেন্সিডিল স্পট, মহাখালী প্রানী সম্পদ গবেষনা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন নাটা ইউসুফ ও তার ভাই আবিরের ইয়াবা স্পট, মহাখালী স্কুল রোড হক কাঁচা বাজার সংলগ্ন মানিকের ইয়াবা স্পট, ওয়ারলেস গেট জেরিন টেইলার্স সংলগ্ন বুলুর ড্রাইভার কাশেম ওরফে বাবা কাশেমের ইয়াবা স্পট, আরশাদ নগর বস্তির ইয়াসিনের ইয়াবা স্পট, তিতুমীর কলেজ সংলগ্ন হাজাড়িবাড়ী জামাই মালেকের ইয়াবা স্পট। এসব স্পটে মাদকের মূল জোগান দেয়াসহ বনানী থানা পুলিশের গোপন খবর আদান-প্রদান করে মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা করে সোর্স শহীদ। পুলিশের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে মাঝে মাঝে স্পট থেকে শহীদ মাদক সেবকদের ধরিয়ে মামলা দেয়। তরুন প্রজন্ম ও যুব সমাজকে মাদকের মরন ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা জরুরী বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ আছে, মাদক ব্যবসায়ী যারা শহীদকে চাঁদা দেয় তারা মাদক ব্যবসা করে পুলিশের জামেলাবিহীন। বলির পাঠা হতে হয় নিরীহ মানুষকে নয়তো মাদক সেবককে। প্রায়ই আসামী ধরানোর জন্যে থানা থেকে পুলিশ যখন শহীদকে প্রেসার দেয় তখন নিরিহ লোকদের নাটকীয়ভাবে পকেটে চেক করার উছিলায় হাত ঢুকিয়ে নিজের হাতেই থাকা ইয়াবা বের করে ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন…………

About dhaka crimenews

Check Also

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ৬২৫০টি মামলা

স্টাফ রিপোটার:ব্যস্ততম ঢাকায় কে কার আগে ছুটবে তারই যেন প্রতিযোগিতা। ছুটে চলার এই শহরে কেউ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *