Home / রাজনীতি / মনোনয়নে তারুণ্য নির্ভর ঢাকা-১৫ আসন!

মনোনয়নে তারুণ্য নির্ভর ঢাকা-১৫ আসন!

স্টাফ রিপোটার দেলোয়ার:
ঢাকা জেলার ৫টি ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ১৫টি আসন নিয়ে ঢাকার ২০টি আসন। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই ২০টি আসনের গুরুত্ব সব থেকে বেশি প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কাছেই যে কারণে ঢাকার এই আসন গুলোকে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া প্রধান দুই দলই। এ লক্ষ্যে দলের জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। তরুণ ও নারী ভোটারদের টার্গেট করে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে আওয়ামী লীগ বলে জানা যায় দলীয় হাইকমান্ড থেকে ।
ঢাকা-১৫ আসন রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, ভাসানটেক ও শেরে-বাংলা নগর থানার আংশিক এলাকা ও ঢাকা উত্তর সিটির ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঢাকার এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বর্তমান এমপি কামাল মজুমদার ছাড়াও আরও অর্ধডজন নেতা এ আসনে লড়তে চান।

আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এমপি কামাল মজুমদার আগে অবিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ভোটের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তৎকালীন ঢাকা-১১ (মিরপুর, পল্লবী ও কাফরুল) আসনে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে এসএ খালেক নির্বাচিত হন।

নব্বইয়ের পট পরিবর্তনের পর প্রথম ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ড. কামাল হোসেনকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির হারুন রশিদ মোল্লা। ১৯৯৬ সালে বিএনপির এখলাস উদ্দিন মোল্লাকে হারিয়ে এমপি হন আওয়ামী লীগের কামাল মজুমদার।

২০০১ সালে এমপি হন বিএনপির এসএ খালেক। আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০০৮ সালে ঢাকা-১৫ থেকে বিএনপির উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খানকে হারান কামাল মজুমদার। সবশেষ ২০১৪ সালের ভোটে বিএনপি অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এখলাস মোল্লা। কামাল মজুমদারের কাছে তিনি ২৭ হাজার ভোটে হেরে যান। তবে বর্তমানে এমপি কামাল মজুমদার বার্ধক্য জনিত কারণে ও শারীরিক অসুস্থ্যতার জন্য এলাকার রাজনীতি ও জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা নেই। বর্ষীয়ান এই নেতা আওয়ামী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসীন থাকলেও ভোটের রাজনীতি লড়ার মত অবস্থানে নেই। এক্ষেত্রে তরুণ ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে বাছাই করতে পারে আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড ও মনোনয়ন বোর্ড।

তবে কামাল আহমেদ মজুমদার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়বেন উল্লেখ করে বাংলা৫২ নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করছি। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী আছে, তাদের পরিবার প্রতি তিনটি ভোট পেলে আমি এক লাখ ২০ হাজার ভোট পাব।

ঢাকা জেলার ২০ টি আসনের মধ্যে অন্যতম জনবহুল এই আসনে অর্ধডজন প্রার্থী থাকলেও প্রধান আলোচনায় রয়েছে দুইজন তরুণ নেতা। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হক সাচ্চু। এর বাইরেও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আলহাজ এম সাইফুল্লাহ সাইফুল, ঢাকা- ১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ভাই এখলাছ উদ্দিন মোল্লা, কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৪নং ওয়ার্ড কমিশনার আলহাজ জামাল মোস্তফা ।

তবে সরেজমিনে দেখা যায় এই আসনের স্থানীয় ভোটারদের চাওয়া সৎ ও যোগ্য কোন তরুণ প্রার্থীকে এই আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হোক যারা দীর্ঘদিন এই এলাকার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং শুধু ভোট কেন্দ্রিক নয় সব সময় সুখে দুখে তাদের পাশে পাবেন এমন কোন নেতৃত্ব কে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিল দীর্ঘদিন এই আসনে রাজনীতি করে আসছেন ও যুবলীগ উত্তরের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ছবি সংবলিত হেলথ কার্ড করে স্থানীয় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে তার।

আওয়ামী পরিবারের সন্তান মাঈনুল হোসেন নিখিল বাংলা৫২নিউজকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সুখী সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসাবে কাজ করার চেষ্টা করছি।’

ঢাকার এই আসন থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী এটা কি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ফল ? এমন প্রশ্নের জবাবে এই নেতা জানান, ‘আওয়ামী পরিবার থেকে সবাই যোগ্য প্রার্থী যেহেতু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক তাঁর আদর্শ ধারণ করে আমরা রাজনীতি করছি মানুষের জন্য এখানে নৌকার প্রার্থী হয়েছে তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে কিন্তু এদের মধ্যে কোন প্রতিহিংসা নাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেন এ নিয়ে কাজ করতে কোন অসুবিধা হবে না বাঁধা সৃষ্টি হবে না।’

এই আসনে জনগণ কাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন, তিনি জানান, ‘জনগণ এখন অনেক সচেতন শিক্ষিত কে তাদের পাশে থেকে কাজ করছেন তাদের যে কোন বিপদে পাশে থাকছেন এমন কাউকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। তবে আমার প্রসঙ্গে বলতে গেলে আমি নৌকার হয়ে কাজ করি জনগনের জন্য রাজনীতি করি দল এবং জনগণ যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করেন মনোনীত করবেন তবে যেই আসুক না কেন আমি নৌকার প্রার্থীর সাথে কাজ করব।’

এই আসনের প্রধান সংকট খাবার পানি ও জলাবদ্ধতা এ থেকে যদি নির্বাচিত হোন তাহলে কিভাবে সমাধান করবেন ? উত্তরে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় আসেন তখন এই এলাকায় এডিবির একটি প্রজেক্ট এর কাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু তা শেষ করতে পারে নাই তবে পানির সংকট কিছুটা আছেই। এই এলাকার যে সব প্রজেক্ট এর কাজ চালু আছে তা থেকে রাস্তা পানি গ্যাস সংকট রোধ হবে তবে জলবদ্ধতার সংকট থেকেই যাবে এখানে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো না তা সিটি কর্পোরেশন দেখবেন বলে আশারাখি।’

এই আসনের আলোচিত তরুণ প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন (সাচ্চু)। দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর এই আসনে রাজনীতি করছেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হন তিনি এমনকি এক এগারো সরকারের সময় শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনেও নির্যাতনের স্বীকার হোন।

সাবেক মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন (সাচ্চু)। এই এলাকার সন্তান এবং দীর্ঘ ৩২/৩৩ বছর আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এমনকি তৎকালীন জোট সকারের আমলে একুশে আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় আহত হন। ১৯৯১ ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বাংলা৫২ নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই এলাকায় রাজনীতি করার ফলে এই এলাকার মানুষের সুখে দুখে পাশে ছিলাম এবং আছি। এই এলাকার আওয়ামীলীগের সকল অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ৮০ শতাংশ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমি জনগণের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে চলেছি। এক সময়ে এই এলাকা সন্ত্রাসী এলাকা খ্যাত ও মাদক সাম্রাজ্য ছিল যা এখন আমাদের প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়েছে।’

মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে কত টুকু আশাবাদী এবং নেতাকর্মী ও জনগণের কাছ থেকে কতটা সারা পাচ্ছেন ? এমন প্রশ্নে এই নেতা জানান, ‘গত দশম নির্বাচনে জনগণের চাওয়ার জন্য মনোনয়ন কিনেছিলাম তবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেই। এবারও জনগণ ও নেতাকর্মীদের চাওয়ার উপর ভিত্তি করেই নির্বাচনে মনোনয়ন চাইব। তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক যাকেই মনোনয়ন দেবেন দলীয় হাইকমান্ড তাঁর সাথেই কাজ করব। নেত্রীর সিদ্ধান্ত অমান্য করার কোন সুযোগ নেই কারণ উন্নয়নে নেত্রীর বিকল্প নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেই বাংলাদেশ নিরাপদ।’

এই আসনের প্রধান সমস্যা যা আপনি মনোনিত হলে সমাধান করবেন এমন কোন সমস্যা বা সংকট আছে কি না এমন প্রশ্নে এই নেতা বলেন, ‘এই এলাকার সব চেয়ে বেশি দরকার একটা সরকারী কবরস্থান ও কমিনিউনিটি সেন্টার। এখানকার জনগণের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ।’

তিনি বলেন, ‘তবে রাস্তাঘাট অবস্থা আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ না হলেও নব্বই শতাংশ সমাধান হবেএছাড়া গ্যাস পানি বিদ্যুতের তেমন কোন সমস্যা নাই । পানি নিষ্কাশনের জন্য আমার এলাকায় আমি যতদূর পারি চেষ্টা করেছি তবে আমার ক্ষমতাটা কত দূর আমি যদি এলাকার মানুষের চাওয়ার দরুণ নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আশা করি এই জলাবদ্ধতার সংকট সমাধান হবে।’

About dhaka crimenews

Check Also

অক্টোবরেরর শেষ সপ্তাহে নির্বাচনকালীন সরকার: কাদের

স্টাফ রিপোটার: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অক্টোবরের শেষ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *