Home / ক্রাইম নিউজ / স্বামী স্ত্রী মিলে বন্ধুকে খুন” লাশ পুঁতে রাখা হলো রান্নাঘরে

স্বামী স্ত্রী মিলে বন্ধুকে খুন” লাশ পুঁতে রাখা হলো রান্নাঘরে

আরিফুজ্জামান আরিফ-

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ  নিখোঁজ হওয়ার ২৮ দিন পর রংপুরের কাউনিয়ায় নিখোঁজ সিরাজুল ইসলামের (৪০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর আড়াইটায় হারাগাছ পৌরসভার হকবাজার মালিয়াটারীর বন্ধু ফরিদ হোসেনের (৩৩) বাড়ির রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ সিরাজুলের বন্ধু ফরিদ হোসেন ও তার স্ত্রী মিনি বেগম মিস্টিকে (২৫) গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ বলেছে, দাদন ব্যবসার আর্থিক জেরে ঘাতকরা প্রথমে বৈদ্যুতিক শট দিয়ে সিরাজুল ইসলামকে হত্যার পর তার লাশ রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে।

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিরাজুল ইসলাম মোবাইলে হারাগাছের মালিয়াটারী গ্রামের কামার ফুল বাবুর পুত্র ফরিদ হোসেনের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে হকবাজারের যান। এরপর আর ফিরে আসেননি।

ওইদিন থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ার পর সিরাজুলের বড় ভাই সেরাজুল ইসলাম কাউনিয়া থানায় জিডি করেন (নং-৭২১, ১৯-১২-২০১৭)।

ওই জিডির সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কাউনিয়া থানা পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে শনিবার দুপুরে নিখোঁজ সিরাজুলের লাশ তার বন্ধু ফরিদ হোসেনের রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করে।

পরে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কাউনিয়া থানা পুলিশের উপ-পরদর্শক (এসআই) সুলতান আলী বলেন, নিহত যুবক পেশায় দাদন ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিখোঁজ ঘটনার পর জিডির সূত্র ধরে শুক্রবার রাতে ঘাতক ফরিদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং তার স্ত্রীও জড়িত বলে তিনি জানান।

ওই রাতে মিনি বেগম মিষ্টিকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের দু’জনের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিখোঁজ সিরাজুলের লাশ ফরিদের বাড়ির রান্না ঘরের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এসআই সুলতান আলী আরো জানান, দাদনের টাকার জের ধরে ফরিদ ও তার স্ত্রী ওই যুবককে বিরানী খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রথমে বৈদ্যুতিক শট দিয়ে হত্যার পর তার লাশ রান্না ঘরের মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে ফরিদ ও তার স্ত্রী।

নিহতের পিতা মফেল উদ্দিন জানান, তার পুত্র ফরিদের সাথে দাদন ব্যবসা করতেন।

টাকার জন্য তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের স্ত্রী মবিনা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে হত্যাকারী ফরিদ হোসেন ও মিস্টির ফাঁসি চাই আমি।

তারা আমার স্বামীকে বিরানি খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে মোবাইলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, গোল করে মাটি খুঁড়ে লাশ পুতে রাখা হয়।

এতে বোঝা যায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি।

লোহমর্ষক এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের কেউ পার পাবে না।

About dhaka crimenews

Check Also

আশুগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক অপহরণকারী নিহত

জেলা প্রতিনিধি- ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সোলায়মান নামের এক ব্যক্তি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *