Breaking News
Home / Uncategorized / কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীতে একদা খরস্রোতা ধরলা নদী মৃতপ্রায়

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীতে একদা খরস্রোতা ধরলা নদী মৃতপ্রায়

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : এক সময়কার খরস্রোতা ধরলা নদী এখন মৃতপ্রায়! অথচ আট বছর আগেও ছিল পানির প্রবাহ ও প্রাণের স্পন্দন। মাত্র ৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ নদী বাংলাদেশের মোগলহাটের কর্ণপুর দিয়ে প্রবেশ করে কুড়িগ্রামের অদূরে যাত্রাপুরে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। দুই শতাধিক চর সৃষ্টি করে নদীটি হাজার হাজার পরিবারকে দিনমজুর বানিয়েছে। শুধু বালু চর আর বালু চর। গভীরতা কমে যাওয়ায় মানুষজন হেঁটে পার হচ্ছে ধরলার বুক দিয়ে। অনেক স্থানে নদীটির বুক যেন এখন আবাদি জমি। ধরলা শুধু এখন কালের সাক্ষী। ধরলার তীরবর্তী হাজার হাজার হেক্টর জমি ইরি-বোরো আবাদের চরম হুমকির মুখে। সেচ পাম্পগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি উত্তোলন না হওয়ায় হাজার হাজার কৃষক দিশেহারা। নদীটির মধ্য ভাগে কোথাও কোথাও জেগে উঠেছে চর।

দ্বীপচর জেগে উঠেছে শিমুলবাড়ী, বড়ভিটা, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরযতিন্দ্র নারায়ন, চরপেচাই, চর-বড়লই, চর-বড়ভিটা, পেচাই, চরগোরক মন্ডপ, চরখারুয়া, বোয়ালমারি এবং বিলুপ্ত ছিটমহল বাঁশপেচাইকে নিয়ে। চতুর্দিকে ধরলা বেষ্টিত এ দ্বীপ চরটিতে প্রায় ১৫ হাজার লোকের বসবাস। নদীতে নাব্যতা না থাকায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা ডিঙ্গি নৌকা চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের একটি মাত্র পথ স্রোতহীন ধরলার গুয়াবাড়ি ঘাটের বাঁশের সাঁকো পাড়ি দেওয়া। এখানকার যে পরিবারগুলো এক সময় ধরলার মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা চালাত তারা তাদের দীর্ঘ দিনের পেশা হারিয়ে কেউবা দিনমজুর, কেউবা বাড়িঘর ছাড়া, আবার কেউবা বেকার জীবন যাপন করছে।

অন্যদিকে অসংখ্য চর জেগে ওঠা ধরলা নদী ফুলবাড়ী উন্নয়নের একমাত্র অন্তরায় বলে ভুক্তভোগী মানুষজন জানিয়েছেন। হাজার হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। চরম বিপর্যয় ঘটছে এ এলাকার কৃষিতে। বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। স্বচ্ছ ও সুপেয় পানির অভাবে এ এলাকার মানুষজন আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে পানিবাহিত রোগে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো লেগেই আছে। ফলে এ অঞ্চলে মরুকরণ লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

শিমুলবাড়ী চরের সুধীর চন্দ্র রায়, চর-গোরক মন্ডপের সাহাদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম জানান, ধরলা শুধু বর্ষা মৌসুমে বুঝা যায়, এখন শুধু চর আর চর। যতীন্দ্র নারায়ণ, কবির মামুদ সোনাইকাজী, বড়ভিটার চর, মেকলির চরের খলিল, জব্বার, মুকুল, জাহাঙ্গীর, হামিদ, শাহ্ আলম, আফসার জানান, ধরলার নাব্যতাও কমে পানি শুকিয়ে গেছে, আমাদের একমাত্র বৃষ্টি ছাড়া কোনো উপায় নেই।

ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার ও ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ জানান, এ নদীটি পুনরুদ্ধার করতে হলে তলদেশ খনন এবং ড্রেজিং-এর মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে নদীটি আবার তার খরস্রোত ফিরে পাবে।

About dhaka crimenews

Check Also

৮টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে

এম আই মিন্টু- ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ নিবন্ধন পেতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলের মধ্যে আরো আটটি দল ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *