ঢাকা ক্রাইম নিউজ ডেস্ক : ইন্টারনেটের মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, মোবাইল ফোনের ভয়েস কলের মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়া হলেও ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনও সীমা নেই। ফলে যে যার ইচ্ছেমতো দামে ইন্টারনেট বিক্রি করছে। আমি ইন্টারনেটের মূল্যসীমা (উচ্চসীমা ও নিম্নসীমা) বেঁধে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেবো। বৃহস্পতিবার (০৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে আইসিটি বিভাগ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ কিনে ডাটা বিক্রি করা যাবে না। গ্রাহক যদি ব্যান্ডউইথ কিনতে চায়, তাহলে তাদের সে সুযোগ থাকতে হবে। ইন্টারনেট মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। এই অধিকার যেন মানুষের কাছে থাকে, আমি সে চেষ্টাই করব।তিনি বলেন, কাজের জন্য এক বছর যথেষ্ট সময়। এখন থেকেই আমরা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ শুরু করব।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৮ সাল সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জের বছর। এ বছরই সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করবে। তাই জনগণের দৃষ্টি এখন সরকারের দিকেই থাকবে। ফলে আমাদের সেভাবেই কাজ করতে হবে। আবার ২০১৯ সাল হবে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। ওই বছর নতুন সরকার বাংলাদেরশের দায়িত্ব নেবে। বিগত দিনের অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই আগামী বছর জনগণ তার রায় দেবে।

আইসিটি খাতে কোন কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, জানতে চাইলে নবনিযুক্ত এই মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর ও আইসিটি শিল্পখাতে অবকাঠামো তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্কুল পর্যায় থেকে প্রোগ্রামিং শুরু করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চাই। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রোগ্রামিং শুরু করার মানে হয় না। প্রোগ্রামিং শুরু করতে হবে স্কুল থেকে। তাহলেই আমরা আগামীতে এই খাতে দক্ষ জনবল পাবো। এছাড়া, টেলিকম খাতের দৃশ্যমান সমস্যাগুলো দূর করার চেষ্টা করবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইসিটি ও টেলিকম বিভাগের বিরোধ থাকার কোনও কারণ নেই। তবে আইসিটি বিভাগের চলমান ২২টি প্রকল্প বিষয়ে খুঁটিনাটি খোঁজখবর নেওয়া হবে। টেলিফোন শিল্প সংস্থাকেও (টেশিস) ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান হতে দেবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি করে এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করে তোলা হবে।

মোবাইল ফোনে যখন-তখন অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রয়োজনীয় এসএমএস আসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ১৪ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর প্রাণের দাবি এটি। সবাই কমবেশি এ সমস্যায় ভোগেন। এটা দূর করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতবিনিময় সভায় আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরীসহ আইসিটি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুপুরে সচিবালয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি আমাকে এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই মন্ত্রণালয়ের ছাত্র। টেবিলের একপাশ থেকে এতদিন বিভিন্ন দাবি-দাওয়া দিতাম। শ্যাম সুন্দর সিকদার সচিব, তাকে আমি দাদা বলেই সম্বোধন করতাম। তার কাছেই দাবি-দাওয়া জানাতাম। এখন আমার অবস্থান টেবিলের উল্টো দিকে। যে দাবি-দাওয়া নিয়ে এতদিন এখানে আসতাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এখন আমার প্রধান কাজ, চ্যালেঞ্জও বটে।

সচিবালয়ের ৭নং ভবনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বসে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলে, এক বছর অনেক কম সময়। কিন্তু আমি মনে করি, এটি যথেষ্ট। এক বছরে দেশের অনেক কাজ হওয়া উচিৎ। এই মন্ত্রণালয়ের দু’টি বিভাগ, একটি অন্যটির পরিপূরক। এই মন্ত্রণালয়ের সংস্থাগুলো (টিঅ্যান্ডটি, টেশিস, টেলিটক ইত্যাদি) সেবাধর্মী এবং লাভজনক হয়নি। আমি এগুলোকে সেবাধর্মী ও লাভজনক করার চেষ্টা করব।

আমি স্পষ্টবাদী, মানুষের সমালোচনা করি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অন্যের সমালোচনাও সহ্য করি। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম এবং বিশ্বের পঞ্চম স্তম্ভ হচ্ছে ইন্টারনেট। তাই তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়ক নির্মাণ করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশকে ডিজিটাল করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, গত বুধবার টিঅ্যান্ডটি নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়ে বলেছিলাম এই মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এই মন্ত্রণালয়ের দু’টি বিভাগ আমার দু’টি হাত, দু’টি পা, দু’টি চোখ। কাজেই, এই মন্ত্রণালয়ের এই দুই বিভাগের মধ্যে কোনও বিরোধ হবে না, সমন্বয় হবে।

About dhaka crimenews

Check Also

এখন টাকা লেনদেন করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপও

সিন্থয়া নিরজাহান।। হোয়াটসঅ্যাপও ডিজিটাল ভারতের কথা মাথায় রেখে এবার মোবাইলে টাকা লেনদেনের সুবিধাকে আরও দ্রুত ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *