Home / আন্তর্জাতিক / মানবিক সাহায্য নিয়ে মিয়ানমার পৌঁছেছে তুরস্কের জাহাজ

মানবিক সাহায্য নিয়ে মিয়ানমার পৌঁছেছে তুরস্কের জাহাজ

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য নিয়ে তুরস্কের প্রথম জাহাজ মিয়ানমার পৌঁছেছে। বুধবার জাহাজটি মিয়ানমার পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেছে তুর্কি কোঅপারেশন এন্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা)।

বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণের ব্রিটিশ সংস্থা মিডল ইস্ট মনিটর এ খবর দিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, বুধবার এক হাজার টন চাল, শুকনা মাছ ও কাপড় দিয়ে মিয়ানমারে পৌঁছায় জাহাজটি। রাখাইন রাজ্যের সোশ্যাল সার্ভিস মন্ত্রণালয়কে এই ত্রাণগুলো তুলে দেয় তারা।

সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এই ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার রাখাইন রাজ্যের তুর্কি ওই জাহাজকে ত্রাণ সরবরাহে অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগানের ফোনালাপের পর এই অনুমতি পাওয়া যায়। এতে করে প্রথম বিদেশি সহায়তা হিসেবে সেখানে পৌঁছেছে তুরস্ক।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৬শ’ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনার পর এর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। ২০১২ সালের পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আতঙ্কে রয়েছেন মুসলিম ও বৌদ্ধরা।

রোহিঙ্গাদের পক্ষে সোচ্চার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান

গত আটমাসে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়েপ এরদোগান। মি: এরদোগান সরাসরি বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে।

মি: এরদোগানের মতো এতোটা জোরালো অভিযোগ অন্য কোন রাষ্ট্র প্রধান করেননি।

গত মঙ্গলবার মি এরদোগান সরাসরি ফোন করেছেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সু চি-কে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে মিস সু চি’র কাছে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা সচক্ষে দেখতে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি আমিনে এরদোগান আজ ভোরে ঢাকায় এসেছেন।

তার সাথে আছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। আজই তাদের টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার কথা।

প্রশ্ন হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে তুরস্ক কেন এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন পি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ড. তাজ হাশমি মনে করেন এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।

তুরস্ক একসময় মুসলিম বিশ্বে নামকরা একটি দেশ ছিল। ইরান ছাড়া পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা তুরস্কের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মি. হাশমি বলেন, ‘অনেকে এরদোগানকে বলছেন নিউ সুলতান। উনি তুরস্কের সে পুরনো রোলে (ভূমিকায়) ফিরে যেতে চাচ্ছেন। তুরস্কের পুরনো শৌর্য পুনরুত্থান করতে হবে।’

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হবার পেছনে মি. এরদোগানের ব্যক্তিগত বিষয় জড়িত আছে বলে মনে করেন মি. হাশমি।

তিনি মনে করেন, ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত মি. এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের প্রধান প্রতিনিধি হতে চাইছেন। মি. এরদোগান চাইছেন, মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের পরিবর্তে তুরস্ককে নেতৃত্বের আসনে নিয়ে আসতে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মি. এরদোয়ান সোচ্চার হলেও মিয়ানমারের উপর তিনি কতটা চাপ তৈরি করতে পারবেন?

তাজ হাশমি মনে করেন, সে সম্ভাবনা খুবই কম। ভারত এবং চীন প্রত্যক্ষভাবে এবং আমেরিকা পরোক্ষভাবে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‘নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি রোহিঙ্গা রিফিউজিদের ফিরিয়ে দেবেন। চীন সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভেটো দিয়েছে। তার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অ্যাকশন নেয়ার ঘোর বিরোধী। এছাড়া মুসলমানদের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে পলিসি তাতে মনে হচ্ছে না যে আমেরিকা এগিয়ে আসবে। আমেরিকার মিডিয়াতে রোহিঙ্গাদের ব্যাপার নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য হচ্ছে না,’ বলছিলেন তাজ হাশমি।

তার ধারনা, বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি নতুন ফ্রন্ট দাঁড় করানো যায় কিনা সে চেষ্টা তুরস্ক করছে।

যদি মিয়ানমারের উপর কোন চাপ তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে মি. এরদোগানের তাতে কী লাভ হবে?

তাজ হাশমি মনে করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সোচ্চার হয়ে মি. এরদোগান দেশের মধ্যে এবং মুসলিম বিশ্বে এক ধরনের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

তিনি বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বে তার একটা ইমেজ সৃষ্টি হবে যে উনি ইসলামের একজন চ্যাম্পিয়ন, উনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য সাধনে প্রচেষ্টা করছেন।’

তাজ হাশমির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুরস্ক চাইছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান ও বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে একটি ফ্রন্ট করার চিন্তা-ভাবনা মি. এরদোগানের রয়েছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বে রিয়াদ-ভিত্তিক ৫৫টি মুসলিম দেশের যে জোট গঠন করা হয়েছে সেখান থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছে তুরস্ক।

সে প্রচেষ্টায় তুরস্ক সফল হলে সৌদি আরবের উপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি সে অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন মি. হাশমি। বিবিসি।

 

About Dhakacrimenews24

Check Also

রাজনীতিতে নবাগত দুষ্টু ব্যক্তি ট্রাম্প : ইরানের প্রেসিডেন্ট

এম এইচ মনির- ঢাকা ক্রাইম নিউজ ডেক্সঃ  ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *