Breaking News
Home / আইন-আদালত / জমির নামজারিতে কত টাকা লাগে?

জমির নামজারিতে কত টাকা লাগে?

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ জমির নামজারি করতে সরকার-নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। অতিরিক্ত টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘুরলেও মেলে না সেবা। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে সরেজমিনে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ভূমি কার্যালয়ে সেবার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 দৌলতপুর ভূমি কার্যালয়

গত ৩০ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা এই ভূমি কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতা সেজে কাটান এ প্রতিবেদক। এ সময় চারজন সেবাগ্রহীতা ও ভূমি কার্যালয়ের দুজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়।

কার্যালয়ের সামনের মাঠে বসে ছিলেন এক তরুণ। রিফাইতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। খুলনার একটি পলিটেকনিক কলেজের এই ছাত্র বললেন, জমির নামজারির জন্য এসেছেন। আবেদন জমা দিয়েছেন ভূমি কার্যালয়ের এক ব্যক্তির মাধ্যমে। দুই দিন পর স্লিপ দেওয়ার কথা।

খরচের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, স্লিপ হাতে পাওয়ার পরই কার্যালয়ের ওই ব্যক্তি বলে দেবেন কত টাকা লাগবে। তবে যত দ্রুত কাগজ নিতে চাইবেন, টাকা তত বেশি দেওয়া লাগবে।

উপজেলার আড়িয়াগ্রাম থেকে আসা এক ব্যক্তি অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি ১১ শতক জমির নামজারি করতে এসেছিলেন। আড়িয়া ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) তাঁর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন।অতিরিক্ত টাকার কোনো রসিদ তাঁকে দেওয়া হয়নি।

চিলমারী এলাকা থেকে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ২০ দিন আগে তিনি আবেদন দিয়েছেন। তবে এখনো কাজ হয়নি। ঈদের পর আসতে বলেছেন।তিনি সরকার-নির্ধারিত ১ হাজার ১৫০ টাকাই জমা দিয়েছেন। অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় তাঁকে ঘোরানো হচ্ছে।

সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দৌলতপুর ভূমি কার্যালয়ের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এই বাড়তি অর্থ আদায়ে জড়িত। অফিস সহকারী রঞ্জিত কুমার, নাজির আবদুর রাজ্জাক ও অফিস সহায়ক আফসানা বেগম সেবা নিতে আসা লোকজনকে ম্যানেজ করেন।

ইউনিয়নগুলোর তহশিলদাররাও লোকজনকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাঁরা সাধারণত নাম খারিজের একটা ফাইল প্রস্তুত করতে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা দাবি করেন।

নাম খারিজে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, তবে কে কখন কোন কর্মকর্তাকে টাকা দিচ্ছে, এ ধরনের কোনো প্রমাণ পাচ্ছি না। বিষটি নিয়ে আমি খুবই কঠোর অবস্থানে আছি।’

 ভেড়ামারা ভূমি কার্যালয়

গত মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভেড়ামারা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতা সেজে অবস্থান করেন এ প্রতিবেদক। প্রায় দেড় বছর আগে এই কার্যালয়ে লাগানো ১০টি সিসি ক্যামেরার মাত্র দুটি এখন সচল আছে, যা কাগজপত্র রাখার কক্ষে বসানো। যেসব কক্ষে কর্মকর্তারা বসেন, সেগুলোর সব ক্যামেরা নষ্ট ও অন্যদিকে ঘোরানো।

এই প্রতিবেদক কার্যালয়ের খারিজ সহকারী নারায়ণ চন্দ্রের কাছে যান। আগমনের কারণ জেনে নেওয়ার পর তিনি বললেন, ‘নাম খারিজে সরকারি মূল্য ১ হাজার ১৫০ টাকা। আর যারে যেমন পারেন দেবেন।’

কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা ধরমপুর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, জমির নামজারি মানে বড় একটা ঝামেলা। সরকারি খরচের দ্বিগুণ টাকা দেওয়া লাগে।

এই কার্যালয়ে চার মাস ধরে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নেই। ভেড়ামারার ইউএনও মিজানুর রহমান অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। সপ্তাহে এক দিন পুরোটা ও বাকি প্রতি কার্যদিবসে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সেখানে বসার কথা তাঁর।

কিন্তু ওই দিন তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে ইউএনওর কার্যালয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি তাঁকে তুলে ধরেন এ প্রতিবেদক। এ সময় ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় তাঁর জানা নেই। কোনো কর্মকর্তা নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা চাইতে পারেন না উল্লেখ করে ইউএনও এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি তাঁর কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

ইউএনওর কক্ষে বসে ছিলেন উপজেলার বাহাদুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউএনও) চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান। ইউএনও তাঁকে দেখিয়ে বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করতে পারেন ভূমি কার্যালয়ে কিছু হয় কি না।’

এ সময় আশিকুর বলেন, তাঁর এলাকার এক ব্যক্তি দালালকে নামজারি করতে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কাজ না হওয়ায় তিনি সালিস ডেকে টাকা ফেরত নিয়েছিলেন। এমন তথ্য জানার পর ইউএনও চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘আপনি আমারে বলেন নাই কেন?’ এ কথা শুনে মুচকি হাসেন চেয়ারম্যান আশিকুর।

About Dhakacrimenews24

Check Also

ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে রাজধানীতে ৩ হাজার ২০১টি মামলা

সুজন আলী- ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ  রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৩ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *