Breaking News
Home / ক্রাইম নিউজ / ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হন ছাত্রলীগ নেতা

ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হন ছাত্রলীগ নেতা

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ছাত্রলীগের নেতা মশিউর রহমান ওরফে মশু খুন হয়েছেন বলে নিহত ও আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে, স্থানীয় দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পরও পুলিশ এজাহারভুক্ত আট আসামির কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মশিউরের বাবা জুলহাস ব্যাপারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, এজাহারভুক্ত যুবলীগের কর্মী মোল্লা স্বপন ও মনোয়ার হাসান ওরফে লেদু হাসান ইয়াবা ব্যবসা করে আসছেন।

এতে বাধা দেওয়ায় তাঁরা মশিউরের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ৩ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি মোল্লা স্বপন ও লেদু হাসানকে ঘটনাস্থলের দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে দেখেছেন।

অবশ্য মামলায় বলা হয়েছে, লেদু হাসানের নেতৃত্বে আসামিরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে মশিউরকে হত্যা করেছেন।

এজাহারভুক্ত আসামি মোল্লা স্বপনের ভাই শহীদুল ইসলাম বলেন, মশিউর ইয়াবা ব্যবসা করতেন। এতে বাধা দেওয়ায় গত ২ আগস্ট মশিউর তাঁর সহযোগীদের নিয়ে স্বপন মোল্লাকে পেটান।

এ ঘটনায় তিনি ৩ আগস্ট আদাবর থানায় মশিউরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অবশ্য কয়েক দিনের মাথায় মশিউর জামিনে ছাড়া পান। তিনি বলেন, স্বপন যুবলীগের কর্মী এবং আদাবরের শাপলা হাউজিংয়ে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের ক্লাবের দায়িত্বে আছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার পরিদর্শক (অভিযান) অসীত কুমার সাহা গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, এলাকাভিত্তিক দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত মশিউরের সঙ্গে স্বপন মোল্লার দ্বন্দ্ব অনেক পুরোনো। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। দু-একজন আসামি গ্রেপ্তার হলে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঈদুল আজহার পরদিন গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের শেখেরটেকের রফিক হাউজিং সোসাইটি এলাকায় মশিউরকে একা পেয়ে হামলাকারীরা প্রথমে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে মশিউর তাঁদের আচরণের প্রতিবাদ করলে তাঁরা ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে তাঁর মাথার পেছনে আঘাত করেন।

মশিউরকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গত সোমবার নিহত মশিউরের বাবা জুলহাস ব্যাপারী আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তাঁরা হলেন মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসান, মোল্লা স্বপন, মধু, সেলিম ওরফে কসাই সেলিম ওরফে বিয়ার সেলিম, সাগর, সাঈদ ওরফে পিচ্চি সাঈদ, ফরহাদ ও মো. হৃদয়। তাঁরা স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছেন জুলহাস ব্যাপারী।

অবশ্য আদাবর থানা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মশিউর হত্যা নিয়ে পৃথক বিবৃতিতে এজাহারভুক্ত মনোয়ার হাসানকে আদাবর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে দাবি করেছে।

আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ ও যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান ওরফে হিটু বিবৃতিতে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

About Dhakacrimenews24

Check Also

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত

ইমতিয়াজ উদ্দিন- ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ  রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড়ে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে সড়ক দুর্ঘটনায় আসমা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *