Home / খেলা / লায়নদের পরীক্ষা নিচ্ছে গরম

লায়নদের পরীক্ষা নিচ্ছে গরম

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ নাথান লায়ন প্রথম কয়েক মিনিট শুধু গরমের ‘চর্চাই’ করলেন। অর্থাৎ চট্টগ্রামে কাল কেমন গরম পড়ল, সেই গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁদের কী রকম কষ্টটা করতে হয়েছে, প্রচণ্ড গরমেও শক্তি ধরে রাখতে মাঠে তাঁরা কী করেছেন ইত্যাদি। এরপর এল তাঁর বোলিং ও সাব্বির রহমানের ব্যাটিং প্রসঙ্গ।

৫ উইকেট পাওয়া লায়ন তো লায়নই, কিন্তু সাব্বিরকে নাকি তাঁর মনে হয় বিরাট কোহলির মতো!

সে প্রসঙ্গ পরে। আগে গরমে অস্থির অস্ট্রেলিয়ার কথাই শোনা যাক। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম তিনটি দিন অন্তত বৃষ্টির উৎপাত থাকার কথা। অথচ প্রথম দিনটা কিনা কাটল কাঠফাটা রোদে! সেটা কী রকম, সংবাদ সম্মেলনে লায়নের শুরুর কথাগুলো থেকেই তা স্পষ্ট:

—টেস্টে আমি আমার কঠিনতম দিনটি পার করলাম। এটা আমার ৬৯তম টেস্ট। মনে হয় না শারীরিকভাবে এর চেয়ে বড় পরীক্ষার মধ্যে আমি পড়েছি।

—প্যাটি (প্যাট কামিন্স) অসাধারণ এক ক্রিকেটার। শেষের ৩০ মিনিট সেও আইসবাথে বসেছিল।

—আজ (গতকাল) রাতটা আমরা খুব ভালোভাবে ঘুমাব। পুরো শক্তি ফিরিয়ে আনব।

—শেষ দিকে আমরা কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ি। সে জন্য ওরা কিছু শটও খেলতে পেরেছে।

বাংলাদেশ দল ১১৭ রানে ৫ এবং পরে আরও একটি উইকেট হারালেও উইকেটে স্পিনারদের জন্য তেমন কিছুই ছিল না বলেই মনে হয় লায়নের। তবু সোজা বলে খেলতেই কষ্ট হচ্ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।

উইকেট নেওয়ার কাজটা লায়ন বলতে গেলে একাই করলেও আরেক দিকে কামিন্সও অস্বস্তিতে রেখেছিলেন ব্যাটসম্যানদের। এ ব্যাপারে দুজনের পূর্বপ্রস্তুতিও ছিল, ‘প্যাটি আর আমি আগেই আলোচনা করেছি, বোলিং আক্রমণে আমাদেরই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আমার মনে হয় দিনের শুরুতে আমরা সেটা বেশ ভালোভাবেই পেরেছি।

নিষ্প্রাণ উইকেটেও ৬ উইকেট তুলে নিয়েছি।’

লায়ন-কামিন্স দুজনই বাংলাদেশে আসার আগে উপমহাদেশের কন্ডিশন নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করেছেন। কামিন্স কাজ করেছেন সহকারী কোচ ব্র্যাড হাডিনের সঙ্গে। আর লায়ন সাহায্য নিয়েছেন দলের স্পিন পরামর্শক শ্রীধরন শ্রীরামের। এর আগে দেশে নিজের মেন্টর জন ডেভিসনের সঙ্গেও উপমহাদেশের উইকেটে বোলিং নিয়ে কিছু কাজ করেছেন। ভারতীয় স্পিনার অশ্বিনের ভিডিও ফুটেজ দেখেও ধারণা নিয়েছেন এখানে কীভাবে বোলিং করতে হবে।

আর উপমহাদেশে আগের পাঁচটি সফরের অভিজ্ঞতা তো আছেই। সব মিলিয়ে এই কন্ডিশনে বোলিং করার হোমওয়ার্ক খারাপ হয়নি এই অফ স্পিনারের। মিরপুর টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নেওয়ার পর কালও ৫ উইকেট নেওয়ার পেছনে তাই একটাই শক্তি দেখেন তিনি, ‘আমার মনে হয় এখানে আত্মবিশ্বাসটাই সবচেয়ে বড়।

উপমহাদেশে খেলে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারছি। এটাই সবচেয়ে ভালো দিক।’

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে কত রানে আটকে রাখতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ভালো, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি লায়ন।

শেষ পর্যন্ত কত রানের লক্ষ্য হলে জয়ের স্বপ্ন দেখা যাবে, জানেন না সেটাও। আপাতত জানেন একটা জিনিসই—আজ যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের বাকি চারটি উইকেট উপড়ে ফেলতে হবে।

কে না জানে, সুন্দর সকাল সুন্দর ভবিষ্যতেরই বার্তা দেয়!

About Dhakacrimenews24

Check Also

সাকিব ফেরালেন হ্যান্ডসকম্বকে

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের উইকেটের তালিকায় হ্যান্ডসকম্বের উইকেটটি যুক্ত হবে না; কারণ সেটি ছিল ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *