Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / কেন কেড়ে নেওয়া হবে না সু চির নোবেল?

কেন কেড়ে নেওয়া হবে না সু চির নোবেল?

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলছে বর্তমান বিশ্বের ভয়াবহতম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড। সে দেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকজন। বসতি থেকে উচ্ছেদ হয়ে প্রাণভয়ে তারা ছুটছে সীমান্তের দিকে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী সম্প্রতি ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে আসছে। প্রতিদিন সাগরে ও নদীতে ভাসছে রোহিঙ্গা শিশুদের লাশ।

সু চি কিছু বলছেন না। এ ব্যাপারে সু চির কোনো উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেই। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিহীন জাতি রোঙ্গিহাদের প্রতি এ নৃশংসতম হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনেও তেমন সরব হয়নি বিশ্বের পরাশক্তি ও প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলো।

নিশ্চুপ রয়েছেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান ও নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি।

রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের ক্ষেত্রে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। সে ঢেও লেগেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে সু চিকে দেওয়া শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ফিরেয়ে নেওয়ার। সু চির নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়া হবে কিনা কিংবা তা সম্ভব কিনা এসব নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনা চলছেই।

বিশ্বের বিবেকবান মানুষসহ শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইও সু চির কঠোর সমালোচনা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায়, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বিক্ষোভকারীরা সু চির পদক কেড়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুড়িয়েছে তার ছবি।

শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন পাকিস্তানি কিশোরী মালালা ইউসুফজাই। তিনিও সমালোচনা করলেন রোহিঙ্গা নিয়ে সু চির ভূমিকার। টুইটারে মালালা লিখেছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আমি এই মর্মান্তিক ও লজ্জাজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আসছি। আমি এখনো অপেক্ষা করছি নোবেল জয়ী সু চি একই কাজ করবেন।

সারা বিশ্ব অপেক্ষা করছে এবং রোহিঙ্গা মুসলমানরা অপেক্ষা করছে। ১৯৮৮ সালে সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন সু চি। কিন্তু জান্তা সরকার তাকে কারাবন্দি করে রাখে।

দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি কারাবন্দি থাকেন। অহিংস আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পদক পেয়েছিলেন অং সান সু চি। দীর্ঘ কারাবাস শেষে তিনি এখন মুক্ত।

তিনি বর্তমানে মিয়ানমার সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। অথচ এ সময়ে দেশটির আরাকানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণ। বর্তমানে তার সেই নোবেল প্রাপ্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর থেকে সেখানে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী অভিযান শুরু করে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এতে অন্তত চার শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমের প্রাণহানি ঘটে। সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে রাখাইনে ত্রাণসহায়তা স্থগিত রেখেছে জাতিসংঘ। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইনে দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাবিরোধী রক্তাক্ত অভিযান পরিচালনা করছে।

About Dhakacrimenews24

Check Also

আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণে চীনে ৭জন নিহত

কাজী ইকবাল- ঢাকা ক্রাইম নিউজ ডেক্সঃ  চীনের জিয়াংঝি প্রদেশের শাংলি জেলায় আতশবাজির একটি কারখানায় বিস্ফোরণে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *