Home / খেলা / উইকেটই বোঝেননি ব্যাটসম্যানরা!

উইকেটই বোঝেননি ব্যাটসম্যানরা!

রুবাইয়া রুমি-

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ সাব্বির রহমান সহজ-সরল স্বীকারোক্তি দিলেন। ৬৬ রান করতে ১১৩ বল খেলেছেন। মাঠে ছিলেন সোয়া ২ ঘণ্টার মতো। এর মধ্যেও তিনি নাকি বুঝতে পারেননি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটটা আসলে কেমন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কখনোই উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি।

শুনে বিস্ময় জাগতে পারে। তবে এটাই বাস্তবতা যে, চট্টগ্রামের নিষ্প্রাণ উইকেটও কাল দুর্বোধ্য ঠেকল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাছে। প্রথম চার ব্যাটসম্যানের এলবিডব্লু হয়ে যাওয়ায়ই যার বড় প্রমাণ।

দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা সাব্বিরের নিজের অভিজ্ঞতাও মেলে এর সঙ্গে, ‘প্রথম থেকেই বুঝিনি উইকেট কেমন। আউট হওয়ার পরও বুঝিনি। সামনের দিনগুলোয় হয়তো বোঝা যাবে উইকেট কেমন আচরণ করবে। প্রথম দিনে কিছু বোঝা যায় না।’

বাংলাদেশ দলের আউটগুলো দেখে মনে হয়েছে উইকেটে ব্যাটসম্যানরা টার্ন আশা করছিলেন। স্টাম্প সোজা বলেও সে রকম ভেবে খেলতে গিয়েই একের পর এক বিভ্রান্তি। ফায়দা তুললেন অস্ট্রেলিয়ান অফ স্পিনার নাথান লায়ন।

প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লু করেছেন, পরে সাব্বিরকেও ফেলেছেন স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে।

সাব্বির যেভাবে আউট হয়েছেন সেটা আক্ষরিক অর্থেই স্পিনের ফাঁদে পড়ে। ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় ক্রিজের ভেতরের পা’টা উঠে গিয়েছিল শূনে্য। আউটটা নিয়ে আক্ষেপ আছে সাব্বিরের, ‘আসলে ভারসাম্য রাখতে পারিনি।

আমি অপরাজিত থাকলে দল আরও ভালো অবস্থানে থাকত।’

তবে প্রথম দিনে ৬ উইকেটে ২৫৩ করাটাকেও তিনি খারাপ বলছেন না। ৮৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সাব্বিরেরই ১০৫ রানের জুটি।

তাতে আড়াই শর ওপর রান উঠে যাওয়াটাকে সাব্বির বলছেন, ‘দিন শেষে ভালো খেলেছি, এটিই অর্জন।’ তবে উইকেট যে একটু বেশি পড়ে গেছে, সেটা মানছেন।

উইকেট দুর্বোধ্য মনে হওয়ায় প্রথম ইনিংসে কত রান করলে স্বস্তিতে থাকা যাবে সেটিও বুঝে উঠতে পারছেন না সাব্বির। ৩০০, ৩৫০ এ রকম কোনো অঙ্ক বেঁধে না দিয়ে বললেন, ‘যতক্ষণ খেলা যায়, যতক্ষণ ১০ উইকেট না পড়ে, যত দূর নেওয়া যায় দলকে…।’

সেই লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আপাতত প্রথম দিন শেষে অপরাজিত থাকা দুই ব্যাটসম্যান মুশফিক আর নাসিরের।

সাব্বিরের আস্থা আছে দুজনের ওপরই। তাঁর বিশ্বাস, ব্যাটিংয়ের অপেক্ষায় থাকা মিরাজ, তাইজুল ও মোস্তাফিজেরও সামর্থ্য আছে কিছু না কিছু দেওয়ার, ‘আমাদের ১১ জনই রান করতে পারে।

সবাই চেষ্টা করে রান করতে। কেউ আউট হয়ে গেলে মানে এই না যে বাকিরা পারে না। কারও দিন ভালো যায়, কারও খারাপ।’ এখন যেমন ভালো যাচ্ছে সাকিব, মুশফিক, তামিমদের সময়

 খারাপ সময় যাচ্ছে তরুণদের। সাব্বির আশা দিলেন, ‘হয়তো কিছু না কিছু সমস্যা হচ্ছে। সেটি কাটিয়ে উঠতে পারলে সিনিয়রদের বিশ্রাম দিতে পারব আমরা।’

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে চারে নামলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সাত নম্বরে ফিরে গিয়েছিলেন সাব্বির। কাল টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৬ রানের ইনিংসটিও খেলেছেন সাতে নেমেই। সাব্বির অবশ্য মনে করেন চার-সাত কোনো ব্যাপার নয়।

ইতিবাচক মনোভাবটাই আসল। কলম্বোয় বাংলাদেশের শততম টেস্টে চারে নেমে দুটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছিলেন। কাল দলের সমন্বয় অনুযায়ী ব্যাট করেছেন সাতে।

উইকেটে যাওয়ার সময় মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলেন, পরিস্থিতির দাবি মেনে সাত নম্বরের ব্যাটিংটাই করবেন। ইনিংসটা আরও বড় করতে না পারার আক্ষেপ নিয়েও কণ্ঠে তৃপ্তি, ‘দলকে কিছু দিতে পেরেছি, এতেই আমি খুশি।’

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মুখেও দলকে ভালোই দিচ্ছেন সাব্বির। ইটের জবাবে যেমন পাটকেল, অস্ট্রেলিয়ানদের স্লেজিংয়ের জবাবে তেমন সাব্বিরের স্লেজিং।

নিজে অবশ্য প্রতিপক্ষের স্লেজিংটা উপভোগ করেন বলেই দাবি করলেন, ‘ওরা স্লেজিং করে, আমিও করি। আমি ওদের সঙ্গে কথা বলি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য। স্লেজিং করলে আমি ব্যাটিংয়ে আরও মজা পাই। উপভোগ করি। স্লেজিং ফিরিয়েও দিই।’

স্লেজিংয়ের প্রসঙ্গেই বিরাট কোহলির সঙ্গে আসতে পারত সাব্বিরের নাম ভারতে সর্বশেষ সিরিজেই তো কোহলির সঙ্গে জমে উঠেছিল অস্ট্রেলিয়ানদের কথার লড়াই!

তবে কোহলির সঙ্গে কাল একটু অন্যভাবেই হলো সাব্বিরের তুলনা এবং দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে সেটি করলেন নাথান লায়ন। সাব্বিরের ব্যাটিং দেখলে নাকি কোহলিকে মনে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার অফ স্পিনারের।

সাব্বিরের সংবাদ সম্মেলনে প্রসঙ্গটা তুললে উল্টো লায়নের প্রশংসাই ঝরে পড়ল তাঁর কণ্ঠে, ‘লায়ন অসাধারণ বোলার।

৫ উইকেট পেয়েছে, তাকে অভিনন্দন। বিরাট কোহলির মতো ব্যাটসম্যান আমি হতে পারিনি। চেষ্টা করলে হয়তো সবই সম্ভব। তবে কোহলি কোহলি, আমি আমিই।’

About Dhakacrimenews24

Check Also

সাকিব ফেরালেন হ্যান্ডসকম্বকে

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের উইকেটের তালিকায় হ্যান্ডসকম্বের উইকেটটি যুক্ত হবে না; কারণ সেটি ছিল ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *