Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / শান্ত হয়নি দার্জিলিং

শান্ত হয়নি দার্জিলিং

রুবাইয়া রুমি

জনমুক্তি মোর্চার একাংশের নেতৃত্বে রয়েছেন দলটির সমন্বয়ক বিনয় তামাং। অন্য অংশে রয়েছেন মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং এবং সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি।
আন্দোলনের সময় চলা সহিংস ঘটনায় রাজ্য সরকার জনমুক্তির নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে। এই মামলা থেকে বাদ যাননি বিমল গুরুং। এর ফলে গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য গা ঢাকা দেন বিমল গুরুং।

আর এ সময় দলের নেতৃত্ব দেন বিনয় তামাং। তামাংয়ের সঙ্গে যোগসূত্র ঘটে রাজ্য সরকারের। আর এর ফলেই বিনয় তামাং মুখ্যমন্ত্রী মমতার ডাকে যোগ দেন সর্বদলীয় বৈঠকে। সেখান থেকে ফিরে এসে বিনয় তামাং গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বনধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

এই ঘোষণার পর আত্মগোপন করে থাকা বিমল গুরুং তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন। জ্বলে ওঠেন রোশন গিরিও। এরপর তাঁরাই পাল্টা ঘোষণা দিয়েছেন, দার্জিলিংয়ে বনধ চলবে। আর ওই ঘোষণার পর পাল্টে যায় দার্জিলিংয়ের চেহারা।
আজ থেকে বনধ প্রত্যাহার করার কথা থাকলেও অধিকাংশ দোকানপাট খোলেনি। রাস্তায় নামেনি যানবাহন, খোলেনি স্কুল কলেজ। ফলে দার্জিলিং সেই আগের বনধের চেহারায় চলে যায়।

আজ বিমল গুরুং জানিয়ে দিয়েছেন, বনধ চলবেই। তাদের পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি না মানা পর্যন্ত এই বনধ চলবে। জনগণ তাঁর সঙ্গে রয়েছে। একই সঙ্গে বিমল গুরুংরা দলের সমন্বয়কের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন বিনয় তামাংকে। বিনয় তামাংও জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

তাঁকে সরানো সোজা নয়। দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা চাইলেই তিনি সরে যাবেন, নয়তো সরে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন নেই নতুন দল গড়ারও। যদিও বিমল গুরুং অভিযোগ করেছেন, ‘বিনয় তামাংরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকে দমাতে চাইছে। তাতে এই আন্দোলন থেকে আমরা পিছপা হব না। আন্দোলন চলবে।’

এদিকে কালিম্পংয়ে আজ পিকেটিংয়ের সময় এক মোর্চা সমর্থক পুলিশের তাড়া খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর নাম রমিলা রাই। তাঁর মৃতদেহ নিয়ে জনমুক্তি মোর্চার সমর্থকেরা মিছিল করেছেন কালিম্পংয়ে। অন্যদিকে কালিম্পংয়ে আগুন লাগানোর ঘটনায় আজ গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোর্চা-সমর্থক সুরুজ বাগদাসকে। গরুবাথানে বিনয়ের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। সোনাদায় বিনয় তামাংকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মোর্চার সমর্থকেরা।

বিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলা ভাষা পড়ানোর ঘোষণা দিলে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা তা না মেনে এর বিরোধিতায় মাঠে নামেন। মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবি জানান। কিন্তু প্রত্যাহার না হওয়ায় আন্দোলনকে চাঙা রাখার জন্য জনমুক্তি মোর্চার নেতারা শুরু করেন পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের আন্দোলন।

পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে গত ১২ জুন থেকে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের দার্জিলিং বনধ। সেই বনধ আজ শুক্রবার ২ মাস ২২ দিনে পা দিল।

About Dhakacrimenews24

Check Also

আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণে চীনে ৭জন নিহত

কাজী ইকবাল- ঢাকা ক্রাইম নিউজ ডেক্সঃ  চীনের জিয়াংঝি প্রদেশের শাংলি জেলায় আতশবাজির একটি কারখানায় বিস্ফোরণে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *