Breaking News
Home / Uncategorized / সাতক্ষীরায় খাটাল মালিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

সাতক্ষীরায় খাটাল মালিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ গরুর ব্যবসা করে এখন আর লাভ হয় না। তবে এই ব্যবসা করি কেন জানেন ? ভারতে অনেক টাকা পড়ে রয়েছে। এই টাকা আদায় করার জন্য লোকসান করে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
ভারতীয়রা যে দাম ধরে গরু পাঠায় সেই দামে গরু বিক্রি করা খুবই কঠিন। আর পরে বাংলাদেশের মাটিতে গরু পা রাখার সাথে সাথে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
এই টাকা যাচ্ছে খাটাল মালিক, অসাধু বিজিবি, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে। যার ফলে কেউ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।’ সাতক্ষীরার ঘোনা সীমান্তে গরুর খাটালে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন- সীমান্তের গরু ব্যবসায়ী  বাবলু, ফিরোজ, মশিয়ার ও আব্দুল রহমান।
এ ভাবে সাতক্ষীরার ঘোনা সীমান্তের গরু ব্যবসায়ীরা পড়ছেন চাঁদা বাজদের কবলে। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট দফায় দফায় আদায় করছেন মোটা অঙ্কের চাঁদা।
গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজস্বের ছয় থেকে সাত গুণ টাকা টাকা তাদের চাঁদা দিতে হয়। আর খাটাল মালিকরা বলছেন টাকার পরিমাণ বাড়েনি আগের মতই আছে।
এভাবে প্রতিদিন সাতক্ষীরা সীমান্তের গরু ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসবের কোন খোঁজ খবর রাখেন না বলে জানান।
এসব কারণে ভারত থেকে গরু কম আসলে আসন্ন কোরবানিতে পশু সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করছেন গরু ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি ঘোনা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে গরু আসছে। সাতক্ষীরার অন্য কোন সীমান্ত দিয়ে এই পরিমাণ গরু আসে না। সেই সুবাদে এই সীমান্তে খাটাল মালিকরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আর ভারত থেকে গরু চোরাই পথে আসে বলে কেউ এর প্রতিবাদও করতে সাহস পান না। গরু ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী ভারত থেকে একটা গরু বাংলাদেশে আসার পর ৫’শ টাকা  রাজস্ব দিয়ে বৈধ করতে হয়। আর খাটাল মালিকরা নেবেন মাত্র ৫০ টাকা। অথচ খাটাল মালিকরা সেখানে মোট পাঁচশ’ ৫০ টাকার স্থলে আদায় করছেন তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ব্যবসায়ীদের নামে গরু করিডোর না করে খাটাল মালিকরা নিজ নামে সব গরু করিডোর করে থাকেন। এই টাকার ভাগ অসাধু বিজিবি, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে যাচ্ছে।
গরু ব্যবসায়ীরা তজিবর, শহিদুল ও লতিফ জানান, শুধু ঘোনায় নয় কালিয়ানি, শাখরা, কোমর পুর , বৈকারি, তলুই গাছা, কাকডাঙ্গা, মাদরা হিজদি ও চান্দুড়িয়া সীমান্তে গরু কম আসলেও সেখানে খাটালের টাকা নেয় ঘোনা খাটালের চেয়ে দুই একশ’ টাকা কম।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ভারতীয়রা যে গরু পাঠায় তার দাম ধরে খুব চড়া। সে দামে গরু বিক্রি করা সম্ভব হয়না। তারপর আবার খাটাল মালিকদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাঁদা আদায়। এর ফলে প্রতিদিন লোকসান করে ব্যবসা করতে হচ্ছে তাদের। আর ব্যবসা না করলে ভারতে পড়ে থাকা তাদের লাখ লাখ টাকা আর আদায় হবে না। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, খাটাল মলিকরা যদি চাঁদার পরিমাণ কমাতো তবে সামনে কোরবানি উপলক্ষে প্রচুর গরু আসতো ভারত থেকে। আর দেশীয় বাজারে গরু বেশি আসলে কোরবানির পশুর দামও অনেক কম হতো। তবে, ভারত থেকে আসা সব গরু করিডোর করে না। কারডোর না করে পুরানো কাগজ  দিয়ে করিডোর দেখিয়ে প্রচুর রাজস্ব ফাকি দেন খাটাল মালিকরা।
খাটাল মালিকরা কাস্টমস করিডোরে নিজেদের লোক পাঠিয়ে শুল্ক রশিদ কেটে নিয়ে আসে। গরুর পিঠে সিল দেওয়া এবং নাম্বার দেওয়ার কথা কাস্টমস কর্মকর্তাদের, অথচ সেটি না করে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন খাটাল মালিকরা। গরু রাখার দায়িত্ব পেয়ে খাটল মালিকরা সর্বেসর্স্বা হয়ে উঠেছেন। এদিকে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অসাধু পুলিশ, বিজিবি, চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ রাজনৈতিক নেতাদের কাছে খাটাল মালিকরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।
চাঁদা আদায়ের মুল দায়িত্বে থাকা আনিস জানান, চেয়ারম্যান ও তার ভাই হাবু আর তিনি এই খাটাল পরিচালনা করে থাকেন। তবে মূল দায়িত্বে রয়েছেন চেয়ারম্যান। সমস্ত জায়গায় তাদের টাকা দিতে হয়। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন জাকির। গরু ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে খাটাল বাবদ ২৫শ’ টাকা উত্তোলন করার কথা স্বীকার করেন তিনি। অতিরিক্ত টাকা নেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে নিজেও একজন গরু ব্যবসায়ী। অন্য কোন খাটালে গরু আসলে তার এর চেয়ে বেশি  টাকা দিয়ে গরু আনতে হয়। বরং তারা  অন্যদের তুলনায় কম টাকা নেন।
ঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুবক্কব সিদ্দিকী জানান, তার দলের কোন নেতা-কর্মীরা এই খাটালের সাথে জড়িত নেই। খাটাল চালায় মোশা চেয়ারম্যান ও তার ভাই হাবু। সাথে আছেন নাশকতা মামলার আসামি সবুজ, মনিররু, লিটন ও রবিউল। তিনি আরো বলেন, এর প্রতিবাদ করে হামলা মামলার স্বীকার হয়েছেন তিনিসহ আরো অনেকেই। এসব করে মোশা অনেক টাকার মালিক হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশা জানান, খাটালে গরু প্রতি ২৫শ’ টাকার নেওয়া হয়। তার মধ্যে পাঁচশ’ টাকা ভ্যাট খরচ। বাকি টাকা তার আনুষঙ্গিক খরচ হয়। তবে নাশকতা মামলার কোন আসামিরা তার সাথে নেই বলে তিনি আরো জানান। সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবির ঘোনা ক্যাম্পের সুবেদার আমিরুল ইসলাম জানান, বিজিবি শুধু মাত্র সিলিপ লিখে দেন। গরু প্রতি কত টাকা আদায় করা হয় এটা জানার বিষয় বিজিবির নয়। আর এ সবের সাথে বিজিবি জড়িত নয়।
সাতক্ষৗীরা সদর থানার ওসি মারুফ আহম্মেদ জানান, পুলিশ খাটালের অনুমতি দেয় না। যারা অনুমতি দেন তাদের জিজ্ঞাসা করেন কিভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। যারা অনুমতি দেন তারা যদি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাহলে আমরা তাদের সাথে থাকবো। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দীন জানান, জেলা প্রশাসন শুধু মাত্র খাটাল পাহারা দেওয়ার অনুমতি দিয়ে থাকেন। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি কে দেখবে ? যাদের দেখার দায়িত্ব তারা এর সাথে জড়িত কি না খোঁজ খবর নেন। তবে জেলা প্রশাসনের কোন লোক এর সাথে জড়িত নন বলে তিনি আরো জানান।

About Dhakacrimenews24

Check Also

কে কিনলেন ১৬ লাখ টাকার সুলতানকে

ঢাকা ক্রাইম নিউজঃ রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটে এখনো বেচাকেনা জমে উঠেনি। তবে গরু-ছাগলের আমদানি হয়েছে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *